বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। কোনো আলোচনাও হয়নি। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।
আজ শুক্রবার বিকালে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সুধি সমাবেশে যোগদানের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, গণভোটের পক্ষে দেশের মানুষের দেওয়া রায়কে অপমান-অগ্রাহ্য করেছে সরকার। তবে এই রায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে দেওয়া হবে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংসদ ও সংসদের বাইরে লড়াই চালিয়ে যাব। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হবেই একদিন।
তার ভাষ্য, বর্তমান সরকার গণভোটকে আগ্রাহ্য করার পাশাপাশি ব্যাংকের গভর্নর পরির্বতন করে বিতর্কিত মানুষকে আমানতের জায়গায় বসিয়েছে। ৪২ জেলায় প্রশাসক বসিয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক উপায়ে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন কেন দলীয় লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসাতে হবে? বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন করে জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের আবার বড় বড় জায়গায় বসিয়ে রাখা হয়েছে।
এটি জনগণের সঙ্গে এক ধরনের তামাশা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান চর্চার জায়গা হলেনও সেখানে দলীয় অনুগত লোকজনকে ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এসবের জবাব নেই তাদের কাছে। তারা মনে করছে এই পরিকল্পনা ফাইনাল। অতীতের সরকার সাড়ে ১৫ বছর অনেক কিছু সাজিয়েছিল, কিন্তু দুদিনের মাথায় সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কে জামায়াত আমিরের বক্তব্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী দল। আমরা সব নির্বাচনে অংশ নেব। কিন্তু দুটি উপনির্বাচনের অবস্থা দেখে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে তার কথা, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের বিষয়ে সরকারকে অভিনন্দন জানাই। কিন্তু তা তিস্তার বিনিময়ে নয়। তিস্তার জায়গায় অবশ্যই তার পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। এর বিনিময়ে আমরা কিছু চাই না।
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, শুধু ধর্মীয় পরিচয়ে আঘাত করার অধিকার দুনিয়া কিংবা কোনো সংবিধান দেয় নাই। যারা মানবতার ওপর জুলুম করবে, আমরা তাদের বিপক্ষে অবস্থান করব।
সুধি সমাবেশে রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবার রহমান বেলাল প্রমুখ।
শেষে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খানের নাম ঘোষণা করা হয়।
এর আগে সকালে রংপুর নগরীর মডেল কলেজ মিলনায়তনে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের উপজেলা ও থানা আমিরদের নিয়ে বিভাগীয় সম্মেলনে যোগদেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।




