বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
মাত্র ১২ দিনের এক ঝড়ে তছনছ হয়েছে সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের গদি। বিদ্রোহীদের এক ঝড়ো অভিযানের মুখে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের ৫৩ বছরের শাসনের অবসান হয়েছে।
দামেস্ক শহরের একটি মসজিদে দেওয়া ভাষণে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের প্রধান নেতা আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি বলেছেন, ‘এই বিজয় সিরিয়ার সব মানুষের।’ এর আগে এক বিবৃতিতে জোলানি বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের আগপর্যন্ত অন্তবর্তী দায়িত্বে থাকবেন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জালালি।
বাশার সরকারের পতনের পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গুলি, ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। সরকারের সুবিধাভোগিদের ওপর হয়েছে এসব আক্রমণ। অনেকে বলছেন, এগুলো দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এই পরিস্থিতিতে সেখানে কারফিউ জারি করেছেন বিদ্রোহীরা। এমন অবস্থায় ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলে আসলেও এতদিন রাশিয়া ও ইরানের সহায়তায় প্রচ- দমনপীড়ন চালিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখেন প্রেসিডেন্ট বাশার। গৃহযুদ্ধ ও রক্তপাতের ধারাবাহিকতায় গত ২৭ নভেম্বর নতুন করে অভিযান শুরু করেন বিদ্রোহী যোদ্ধারা। এই অভিযানে নেতৃত্ব দেয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম বা এইচটিএস। সঙ্গে ছিল ছোট-বড় আরও কয়েকটি গোষ্ঠী। অভিযান শুরুর চার দিনের মাথায় ৩০ নভেম্বর সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো দখলে নেয় তারা।
এরপর একে একে হামা ও হোমস নগরী দখলে নিলে বাশার বুঝতে পারেন এবার তার টিকে থাকার সুযোগ নেই। তার সেনাবাহিনীও আগের মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আগ্রহী ছিলো না। দীর্ঘ স্বৈরশাসনে অসন্তোষ ছিলো সেনাবাহিনীর বড় একটি অংশের। বিদ্রোহীদের অভিযানের মুখে কৌশলগত বিভিন্ন অবস্থান থেকে একের পর এক পালিয়ে যেতে থাকেন বাশারের সরকারি বাহিনীর সদস্যরা।
এ সময় বাশার অবশ্য বিদ্রোহীদের ‘নির্মূল’ করার হুমকি দিয়েছিলেন। বাশার সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া বিদ্রোহীদের ওপর দফায় দফায় বিমান হামলাও চালিয়েছে। আলেপ্পো থেকে বিদ্রোহীদের দামেস্ক যাওয়া ঠেকাতে মধ্যবর্তী হামা শহরে যোদ্ধা পাঠিয়ে সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করেছে বাশারের আরেক ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরানের সমর্থক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এত কিছুর পরও বৃহস্পতিবার হামা দখল করে নেন বিদ্রোহী যোদ্ধারা।
এরপর এইচটিএসের নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে দামেস্কের দিকে এগোতে থাকেন বিদ্রোহী যোদ্ধারা। শনিবার তাঁদের হাতে সিরিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর হোমসের পতন হয়। এরপর একে একে দামেস্কের কাছের ডেরা ও সুয়েইদা শহরের নিয়ন্ত্রণ হারায় সরকারি বাহিনী। শেষে রোববার ভোর রাতে দামেস্কে প্রবেশ করেন বিদ্রোহী যোদ্ধারা।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে রাশিয়ার সেনাদের সহায়তায় ব্যক্তিগত বিমানে দেশ ছাড়েন স্বৈরশাসক বাশার। দামেস্ক পুরোপুরি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে যায়।##




