হার মানলেন নেতানিয়াহু, গাজায় যুদ্ধবিরতি

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক : শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের অনমনীয়তারই জয় হলো। গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের শর্ত মেনেই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়েছে দখলদার ইসরাইল। কাতারের মধ্যস্ততায় চুক্তিতে পৌছেছে দুই পক্ষ। তিনটি ধাপে কার্যকর হবে এই চুক্তি।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার ইসরায়েল ও হামাস গাজা যুদ্ধের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে। যেখানে টানা ১৫ মাসের সংঘাতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং যুদ্ধের উত্তাপে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, প্রাথমিকভাবে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির একটি পর্যায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহার এবং হামাসের হাতে আটক বন্দীদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলে আটক ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি খসড়া হাতে পেয়েছে লেবানন ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল মায়েদিন। তার বরাত দিয়ে সংবাদমাদ্যমটি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তগুলোর মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে গাজা উপত্যকা থেকে পুরোপুরি ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের আগে সেনারা যে অবস্থায় ছিলো সেখানে ফিরে যাওয়া।

মিসরের সাথে গাজার সীমান্ত হিসেবে পরিচিতি রাফাহ ক্রসিং আবার খুলে দেয়া হবে এবং দখলদার সেনারা সেখান থেকেও চলে যাবে। একই সাথে আহত লোকদের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে বাধা দেবে না ইসরাইল। এর পাশাপাশি গাজায় প্রতিদিন কাতারের প্রটোকলে ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক ঢুকবে, উদ্বাস্তুদের তাৎক্ষণিক আশ্রয়ের জন্য ঢুকবে ২ লাখ তাবু ও ৬০ হাজার ক্যারাভ্যান।

এই সময়ে ইসরাইল এক হাজার ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে, যাদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা বহু বছর ধরে ইসরাইলি জেলে আছেন। এবং ইসরাইলি জেলে থাকা সব নারী ও ১৯ বছরের কম বয়সীদেরও মুক্তি দেয়া হবে। বাড়িছাড়া গাজার বাসিন্দারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবেন এবং বিনা বাধায় চলাচল করবেন। এছাড়া গাজার সব হাসপাতাল খুলে দেয়া হবে এবং নতুন করে ফিল্ড হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। তবে এসব কিছুর বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপটি হবে ছয় সপ্তাহের এই সময়ে হামাস জীবিত অথবা মৃত ৩৩ ইসরাইলি জিম্মিকে ফেরত দেবে। অন্যদিকে উত্তর গাজার বাসিন্দারা আল রশিদ সড়ক ধরে বাড়িতে ফিরতে পারবেন। বিনিময়ে ১ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেবে ইসরাইল।

এই সময়ে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা নিয়ে আলোচনা হবে। পরবর্তী ধাবে অবশিষ্ট ৬৬ জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাসসহ উপত্যকার প্রতিরোধ সংগঠনগুলো। তবে সেই ধাপটি কবে শুরু হবে তা স্পষ্ট নয়।

একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছে, প্রথম ধাপে হামাস যে ৩৩ বন্দিকে মুক্তি দেবে তাদের মধ্যে শিশু, বেসামরিক নারী, নারী সেনা, পঞ্চাশোর্ধ ইসরাইলি নাগরিক ও অসুস্থরা রয়েছে। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, প্রথম দফায় মুক্তি প্রাপ্তদের মধ্যে ৫ ইসরাইলি সেনা রয়েছে- যাদের প্রত্যেকর বিনিময়ে ইসরাইল ৫০ জন করে ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে। এই পঞ্চাশ জনের মধ্যে থাকবে ইসরাইলি আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৩০ জন করে বন্দি। অর্থাৎ চুক্তির ফলে বিরাট সংখ্যক ফিলিস্তিনি মুক্তি পাবে ইসরাইলি কারাগার থেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top