বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর সাথে বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনীর লড়াইয়ে এক হাজারের বেশি লোক নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমদ আল সারা। সহিংসতার পর রোববার জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, আমরা একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করছি, যারা উপকূলীয় এলাকার ঘটনা খতিয়ে দেখবে। এছাড়া উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটিও গঠন করা হচ্ছে।
সিরিয়ার নেতা বলেন, দেশকে আবার গৃহযুদ্ধের মধ্যে নেবার চেষ্টা করা হচ্ছিল। সাবেক সরকারের অনুগত অস্ত্রধারীদের অবশ্যই আত্মসমর্পন করতে হবে এবং কেউ বেসরকারি লোকদের ওপর হত্যাকা- চালালে তাকেও জবাবদিহি করা হবে।
সাম্প্রতিক এই লড়াইয়ের কারণে উপকূলীয় লাতাকিয়া ও তার্তুস উপকূলীয় অঞ্চলের শত শত মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। আলাবি সম্প্রদায়ের এই অঞ্চল ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, গত দুই দিনে মোট ১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে; যা গত ডিসেম্বরে বাশার শাসনের পতনের পর সিরিয়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা। এদের মধ্যে নারী, শিশুসহ আলাবি সংখ্যালঘুদের সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষক সংস্থাটি।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, সুন্নি ইসলামপন্থী সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর ১২৫ জন সদস্য এবং আসাদের অনুগত ১৪৮ জন যোদ্ধা এই সহিংসতায় নিহত হয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সিরিয়ার মোট জনসংখ্যার মাত্র ১০ শতাংশ শিয়া আলাবি সম্প্রদায়ভুক্ত। গত ডিসেম্বরে বাশারের পতনের পর অনেকে অস্ত্র সমর্পণ করলেও এখনো বহু আলাবি গোষ্ঠী অস্ত্র ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। অন্যদিকে, দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ সুন্নি মুসলমান। সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র দেশটির সানা নিউজ এজেন্সিকে জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতক হামলার’ পর সরকার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে।
তবে সংখ্যালঘু আলাবি সম্প্রদায়ের ওপর এই সহিংসতা তাদের ‘ভীতির মধ্যে’ ফেলেছে। এ ছাড়া শত শত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে পালিয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে আবারও নতুন করে সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ##




