বরিশাল জার্নাল ডেস্ক : গাজা উপত্যকায় প্রতিরোধ যুদ্ধের ৪৫৭তম দিন ছিলো রোববার। যথারীতি এদিনও উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে দখলদার সেনাদের ওপর বেশ কিছু হামলা চালিয়েছে প্রতিরোধ যোদ্ধারা। হামলায় দখলদার সেনাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সূত্র: প্যালেস্টাইন ক্রনিকল
হামাসের সামরিক শাখা আল কাসসাম ব্রিগেডস জানিয়েছে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় আল কুদস ব্রিগেডের সাথে ইসরাইলি প্যাট্রোল ফোর্সের ওপর অ্যাম্বুশ হামলা চালিয়েছে। যোদ্ধারা ছোট অস্ত্র ও হ্যান্ড গ্রেনেড দিয়ে হামলা চালিয়েছে সেনাদের ওপর। হামলায় পেট্রোল বহরটিতে থাকা ১০ সেনা সেনা নিশ্চিতভাবেই নিহত অথবা আহত হয়েছে। হামলার মুখে সেনারা পালাতে চেষ্টা করলেও তাদের খুঁজে বের করে দ্বিতীয়বার হামলা করেছে যোদ্ধারা। ফলে তাদের কারো পক্ষে সুস্থ দেহে পালানো সম্ভব হয়নি।
উত্তর গাজার জাবালিয়া ক্যাম্প এলাকায় একটি বাড়িতে অবস্থান নেয়া একদল সেনার ওপর অভিযান চালিয়েছে আল কুদস ব্রিগেডস। ভবনটির ভেতরে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। হামলার পরপরই একটি ইসরাইলি রেসকিউ হেলিকপ্টার আসতে দেখা গেছে ওই স্থানে। হেলিকপ্টারে হতাহত সেনাদের সরিয়ে নেয়া হয়।
মধ্য গাজার জহুর আল দিক এলাকায় আবু আলি মোস্তফা ব্রিগেডের সাথে মিলে আল কাসসামের যোদ্ধারা যৌথ হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনীর কমান্ড এন্ড কন্ট্রোল সেন্টারের ওপর। তারা সেখানে বেশ কিছু মর্টার হামলা চালায়।
উপত্যকার আরেক প্রতিরোধ সংগঠন শহিদ ওমর আল কাশেম ব্রিগেড একই এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর ওপর মর্টার হামলা চালিয়েছে। উত্তর গাজার জাবালিয়ায় মর্টার হামলা চালিয়েছে আল মুজাহিদিন ব্রিগেড।
এদিকে, হামাসের রাজনৈতিক শাখা জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের সাথে যুদ্ধবন্দী বিনিময় করতে প্রস্তুত। ইসরাইলি বাহিনীর তালিকা করা ৩৪ বন্দীকে বিনিময় করতে তারা রাজি আছে তবে, সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়েছে তাদের কিছু শর্ত পূরণ হলেই কেবল তারা বন্দী বিনিময় করবে। আর এই শর্তের মধ্যে রয়েছে, গাজা থেকে ইসরাইলি সৈন্য প্রত্যাহার, যুদ্ধবিরতি এবং ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি।
হামাসের একজন শীর্ষ নেতা রয়টার্সকে বলেছে, আমরা যখন ইসরাইলের তালিকা করা বন্দীদের মুক্তির ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছি, ইসরাইলকেও হামাসের দাবি অনুযায়ী গাজায় হামলা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, এসব দাবি পূরণ ছাড়া কোন সমঝোতা হবে না।
হামাস বলেছে, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ও যুদ্ধবিরতি এই দুটি শর্ত নিয়ে আরো কোন আলোচনা নয়। বন্দী বিনিময় করতে হলে এ দুটি শর্ত মানতে হবে।
হামাসের ওই নেতা ফিলিস্তিনি বন্দীদের ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তির বিষয়টি তাদের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলেও জানান।




