বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
সঙ্ঘাত কবলিত ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মনিপুরে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাজ্যটিতে বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট সেবা। বেশ কিছু এলাকায় চলছে কারফিউ। এর মধ্যে রাজ্যের গভর্নর আসামে চলে গেছেন। এছাড়া কুকি প্রধান একটি এলাকায় মর্টার হামলা হয়েছে।
ইকোনমিক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা গভর্নরের কার্যালয় ঘেরাও করতে যাওয়ার পরদিন রাজধানী ইম্ফল ছেড়ে আসামের গুয়াহাটিতে চলে যান গভর্নর লক্ষণ প্রসাদ আচার্য। এদিকে পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত মনিপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব ধরণের পরীক্ষা স্থগিত করেছে।
সেভেন সিস্টার্স হিসেবে পরিচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যের একটি মনিপুরে গত কিছুদিন ধরেই চলছে সঙ্ঘাত। একদিকে কুকি ও মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে, অন্যদিকে রাজ্যে অস্থিতিশীলতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। এসব সংঘর্ষে বিচ্ছিন্নতাবাদী কিছু গোষ্ঠিও জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা গভর্নরের কার্যালয় ঘেরাও করতে গেলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়ে। এতে প্রায় একশো শিক্ষার্থী আহত হয়। ওই ঘটনার আগেই অবশ্য তিনটি জেলায় কারফিউ জারি করে প্রশাসন। সংঘর্ষের পরদিন মনিপুর ছেড়ে আসাম রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটিতে চলে যান গভর্নর। তার চলে যাওয়ার বিষয়ে কোন ব্যাখ্যা দেয়নি গভর্নরের দফতর।
পুলিশের দাবি, বুধবার ইম্ফল উপত্যকায় নতুন করে কোন বিক্ষোভ ও সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত দুই হাজার কেন্দ্রিয় বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে রাজ্যটিতে। গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থাপনা এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
তবে ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, কুকি সম্প্রদায়ের একটি গ্রামে মর্টার হামলায় বুধবার সকালে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার বাড়িসহ বেশ কিছু স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে। ওই কর্মকর্তা ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন লেফটানেন্ট কর্নেল। পাশ্ববর্তী সংনু এলাকা থেকে কুকি প্রধান এলাকা লক্ষ্য করে এই মর্টার হামলা হয়েছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু স্থাপনার ভিডিও অনলাইনে শেয়ার করেছেন স্থানীয়রা। কিছু জায়গা থেকে ধোয়া উড়তেও দেখা গেছে। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
ইন্ডিয়া টুডে বলছে, মর্টার হামলার পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে কোন সময় আবার হামলা হতে পারে বলে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।




