বরিশাল জার্নাল ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেয়ার আগ্রহের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় নেতারা। এর নেতৃত্বে ছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শুলজ। ট্রাম্পের উদ্দেশে যিনি বলেছেন, সীমানা লঙ্ঘনের নীতি সব দেশের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য, তাতে দেশটি যত শক্তিশালীই হোক না কেন।
আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে গ্রিনল্যান্ড দখলে শক্তি প্রয়োগ করা হতে পারে ট্রাম্পের এমন আভাসের পরই শুলজ এসব কথা বলেন।
জার্মান চ্যান্সেলর আরো বলেন, জোর করে সীমান্ত পরিবর্তন করা যাবে না। এই নীতি পূর্ব ও পশ্চিমের সব দেশের জন্যই প্রযোজ্য। ট্রাম্পের বক্তব্য ইউরোপী নেতাদের মধ্যে উদ্বেগে সৃষ্টি করেছে বলেও তিনি জানান। ওলাফ শুলজ বলেন, আমাদের ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্যে অস্বাভাবিকতা রয়েছে। আমাদের অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারট বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড ইউরোপের ভূখ-, ইউরোপের স্বার্বভৌমত্বে আক্রমণ করা অনুমতি কোন দেশকে দেয়া হবে না।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আগের মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার সময় উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের গ্রিনল্যান্ড দ্বীপ কিনতে চেয়েছিলেন। এবার নির্বাচিত হয়েই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগের বিষয়টিও নাকচ করেননি তিনি। বিশে^র বৃহত্তম এই দ্বীপটি রয়েছে ডেনমার্কের অধীনে।
এদিকে, ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোককি রাসমুসেন বলেছেন, ‘বাসিন্দারা চাইলে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হতে পারে, তারপরও এটি মার্কিন অঙ্গরাষ্ট্রে পরিণত হবে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের রাজা ফ্রেডরিকের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিউটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মিউটের নেতৃত্বাধীন দ্বীপের সরকারের শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোককে রাসমুসেন বলেছেন, ‘আমরা পুরোপুরি স্বীকার করি যে, গ্রিনল্যান্ডের নিজেরও উচ্চাকাক্সক্ষা রয়েছে। যদি সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হবে। তারপরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল রাজ্য হওয়ার উচ্চাকাক্সক্ষা নেই।’




