ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার সেনারা সফলভাবে হামলা চালিয়েছে ইরানের তিন স্থাপনায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হামলার পর সব মার্কিন যুদ্ধবিমান নিরাপদে ইরানি আকাশসীমা ত্যাগ করেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা- ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহানে অত্যন্ত সফলভাবে হামলা সম্পন্ন করেছি। সব বিমান এখন ইরানের আকাশসীমার বাইরে।’

তিনি আরও দাবি করেন, ফোরদো স্থাপনায় ‘সম্পূর্ণ বিস্ফোরকবোঝাই বোমা’ ফেলা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘সব বিমান এখন দেশে ফেরার পথে। আমাদের বীর মার্কিন যোদ্ধাদের অভিনন্দন। বিশ্বের আর কোনো সেনাবাহিনী এমন অভিযান চালাতে পারত না। এখন সময় শান্তি স্থাপনের।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ জানিয়েছে, ইরানের সবচেয়ে দুর্ভেদ্য পারমাণবিক স্থাপনা ফোর্দোতে ছয়টি বাঙ্কার ব্লাস্টার জিবিইউ-৫৭ বোমা ফেলেছে ইরান। প্রতিটি ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের এই বোমা মাটির গভীরে গিয়ে বিস্ফোরতি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোমারু বিমান থেকে এই বোমা ছোড়া হয়েছে।

ফোর্দো পারমাণবিক কেন্দ্রটি পাহাড়ি এলাকার ভূগর্ভে অবস্থিত। যেটি ধ্বংস করার ক্ষমতা ইসরাইলের নেই। যে কারণে ইরসাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই যুদ্ধে বারবার যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানোর আহ্বান করেছেন। শেষ পর্যন্ত তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর হামলা চালালো। যদিও এই হামলায় মার্কিন পার্লামেন্টের অনুমোদন ছিলো না।

ইরানের নাতাঞ্জ ও ইস্পাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রে টোমাহক মিসাইল হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ফক্স নিউজ জানিয়েছে, দুটি কেন্দ্রে অন্তত ৩০টি টোমাহক মিসাইল ছোড়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ওহাইও ক্লাস সাবমেরিন থেকে ছোড়া হয়েছে, তবে এ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। সাবমেরিনগুলো কোন সাগরে অবস্থান করছে সেটিও স্পষ্ট নয়।

হামলার পর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১০টায় হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘এভাবে চলতে পারে না। হয় শান্তি আসবে, নয়তো ইরানে ট্র্যাজেডি ঘটবে।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘গত আট দিনে আমরা যা দেখেছি, তার চেয়েও সেটা অনেক বেশি ভয়াবহ হবে।’

ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। যদিও ইরান বলছে, হামলায় ক্ষতি হয়েছে সামান্যই। এই ক্ষতি মেরামত যোগ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top