দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

আজিজুল ইসলাম

সাম্প্রতিক সময়ে যে বিষয়টি কম-বেশি সবাইকে ভাবাচ্ছে, তা হলো দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি। অস্বাভাবিক ও আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে জনসাধারণের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। ফলে দৈনন্দিন জীবনে নেমে এসেছে অপ্রত্যাশিত দুর্ভোগ। বিশেষজ্ঞের মতে এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ একাধিক। প্রথমত, মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা প্রায়ই অতিরিক্ত মুনাফার লোভে দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।

দ্বিতীয়ত, সঙ্কটময় বিশ্বপরিস্থিতির কারণে- বহির্বিশ্বে খাদ্যদ্রব্যের সংকট ও মূল্যের ঊর্ধ্বগতির সুযোগে মজুদদাররা খাদ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি করে। তৃতীয়ত, সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ্য ভাতা নিয়ে আলোচনা। গত অর্থ বছরের বাজেটের আগে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা ঘোষণার আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি; কিন্তু এই আলোচনার জের ধরেই মূল্য বাড়তে শুরু করে।

অতীতেও দেখা গেছে সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বা মহার্ঘ্য ভাতা ঘোষণা করার সাথে সাথে বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে থাকে। দেশের চাকুরিজীবীদের একটি ক্ষুদ্র অংশ এই ভাতা পেলেও অসুবিধার দায়ভার বহন করে সমাজের বৃহত্তর অংশ। এমনকি চাকরিজীবীদের মধ্যেও কেউ কেউ এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। সরকারি কর্মচারীগণ যে হারে মহার্ঘ্য ভাতা পান, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় তারচেয়ে অনেক বেশি। ফলে তারাও সমস্যা মুক্ত হতে পারে না।

সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ আছে সবচেয়ে বেশি কষ্টে। স্বল্প আয়ের মানুষরাও অনেকে সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে জানা যায়।

অনেক বছর ধরেই মূল্যবৃদ্ধি এদেশে যেন এক গুরুত্বর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোতে এমনটি ঘটলে বিক্ষোভ দানা বাঁধে, সরকারকে জবাবদিহি করতে হয়; কিন্তু এদেশের সরলপ্রাণ মানুষ এসব ঘটনা নিয়ে বেশি মাতামাতি পছন্দ করে না। অনেকেরই এটা গা সওয়া হয়ে গেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তারা এদেশের জাতীয় সমস্যা বলে ধরে নিয়েছে। তাই সোস্যাল মিডিয়া ও চায়ের দোকানে আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখা যায় না।

অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের টাকার অবমূল্যায়ন হচ্ছে বারবার। আমাদের উৎপাদিত পণ্য বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় পারছে না। এসব ঘটনায় কেউ কেউ রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ফায়দা লুটে নিচ্ছে। দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে এমন অমানবিক সমস্যায় ফেলে যারা নিজেদের আখের গোছানোর চেষ্টায় মত্ত তারা দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু। এসব অসৎ ও দুর্নীতিবাজরা আমাদের আশেপাশেই রয়েছে। তাদের উৎখাত এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি অভিজ্ঞ মহলের দৃষ্টি দেয়া অপরিহার্য।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলাম শিক্ষা বিভাগ
সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top