পটুয়াখালীতে বিএনপি অফিসের ব্যানার খুলে নেয়ায় সংঘর্ষ

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

পাওনা টাকা আদায় নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরবেষ্টিন বাজারে। এ সময় শিশু, বৃদ্ধা, মহিলাসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, মাছ ধরার ট্রলারে মাঝির কাছে পাওনা দিনমজুরির টাকা আদায়ের জন্য ট্রলার আটকে রাখে এক জেলে। পরে করা হয় স্থানীয় শালিস বৈঠক। সেখানে সমাধান না হওয়ায় পাওনাদারকে পেটায় ট্রলার মাঝি ও তার ছেলেরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি অফিসে সাঁটানো পোস্টার ও ব্যানার খুলে নেয় জেলের স্বজনরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, যা থেমে থেমে চলে প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যৌথবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৫টি দোকান ভাঙচুর, দুটি বসত-ঘর ও আটটি দোকান লুটপাট হওয়ার অভিযোগ উঠে। এতে শিশু ও বৃদ্ধা মহিলাসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছে। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ভুক্তভোগী জনসাধারণের ভাষ্যমতে জানা যায়, চরবিশ্বাস এলাকায় একটি মাছের ট্রলারে কাজ করত চরবেষ্টিন গ্রামের আশ্রয়ণের এক ছেলে। ওই ছেলে ট্রলারটির মাঝির কাছে কিছু টাকা পাওনা ছিল এবং তার পাওনা টাকা না দেয়ায় সে মাঝির ট্রলার নিয়ে আসে।

মঙ্গলবার সকালে এটি মীমাংসার জন্য নলুয়া বাজারে একটা সালিস হয়। সালিসের ফয়সালা নৌকার মাঝির পছন্দ হয়নি বলে তিনি এবং তার দুই ছেলে মিলে নলুয়া বাজারে চরবেষ্টিন আশ্রয়ণের ছেলেটিকে মারধর করে। মার খেয়ে ছেলেটি চরবেষ্টিন বাজার আশ্রয়ণের লোকজনকে বিষয়টি জানায়। এরপর সে আশ্রয়ণের লোকজন নিয়ে চরবেষ্টিন বাজারের বিএনপি অফিসের পোস্টার ও ব্যানার খুলে নেয়।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপির লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এভাবে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। যার ফলে উভয় পক্ষের মধ্যেই লুটপাট, ভাঙচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ চলতে থাকে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ও নৌ-বাহিনীর টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top