মুফতি আবু সাঈদ
বর্তমান প্রচলন (العرف) অনুযায়ী যেসব মাদরাসায় গোরাবা ফান্ড রয়েছে সেসব মাদরাসার মুহতামিম বা কর্তৃপক্ষ গরীব ছাত্রদের পক্ষ হতে যাকাত গ্রহণের উকিল তথা প্রতিনিধি। তাই মাদরাসার প্রতিনিধির হাতে যাকাতের টাকা অর্পণ করার দ্বারাই যাকাতদাতার যাকাত আদায় হয়ে যাবে এবং এ টাকার মালিক সম্পূর্ণভাবে গরীব ছাত্ররাই হবে।
আর বর্তমানে যাকাত উসূলকারীগণ শরয়ী ‘আমেল’ নন। বরং তারা ছাত্রদের প্রতিনিধি মাত্র। তাই আমেল হিসেবে সেখান থেকে তারা বেতন-ভাতা নিতে পারবে না। তবে এক্ষেত্রে প্রতিনিধিদেরকে মাদরাসার জেনারেল ফান্ড থেকে নির্ধারিত পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে।
প্রকাশ থাকে যে আমেল হলো ইসলামী হুকুমতের পক্ষ হতে যাকাত উসূলের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি। তাদের বেতন-ভাতা উসূলকৃত যাকাতের টাকা থেকে দেওয়া যায়। আর বর্তমান যাকাত উসূলকারীগণ তাদের মত নয়।
উল্লেখ্য, উসূলকৃত যাকাতের টাকা এর প্রাপককে (গরীব ছাত্রগণ) বুঝিয়ে দেওয়ার পর মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাদের থেকে মাদরাসার নির্ধারিত ফি তথা মাদরাসা কর্তৃক অর্পিত তাদের খরচাদি নিতে পারবে। ছাত্ররা যদি যাকাত-সদকা বাবদ প্রাপ্ত টাকা থেকে তা পরিশোধ করে, তাতেও দোষ নেই। এরপর মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সে টাকা দিয়ে চাইলে যাকাত উসূলকারীদেরকে পারিশ্রমিক দিতে পারবে।
-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২১৪; ইমদাদুল মুফতীন পৃ. ৮৯৫; আহাম ফেকহী ফায়সালে পৃ. ৫৪; আলমাবসূত, সারাখসী ৩/৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৫১; আল কাউসার আগস্ট ২০২০
লেখক : সিনিয়র মুফতি, জামিয়াতুদ দাওয়াহ আল মাদানিয়া ঢাকা




