শতভাগ ফেল, শিক্ষার্থী শূন্য শ্রেণিকক্ষে ঝুলছে তালা

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নে অবস্থিত দিঘিরজান মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজটিতে শিক্ষা কার্যক্রমের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। কলেজ শাখা থেকে চলতি বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫ জন শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছেন। শিক্ষক ও কর্মচারীরা উপস্থিত থাকলেও প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো শিক্ষার্থী। শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলছে, আর পাঠদানের বদলে চলছে কেবল প্রশাসনিক বিচ্ছিন্ন কার্যক্রম। অথচ ২০১৪ সালে পাঠদানের অনুমতি পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি একসময় ভালো ফলাফলের জন্য পরিচিত ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বিগত বছরগুলোতেও কলেজটির ফলাফল আশানুরূপ ছিল না। ২০২৪ সালে ২৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছিলেন মাত্র ১৩ জন। আর ২০২৫ সালে ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেন মাত্র ৫ জন। ২০২৩ সালে ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেন মাত্র ১৮ জন। সর্বশেষ চলতি বছরে মানবিক শাখা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য (শতভাগ ফেল) হয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৮ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মচারী উপস্থিত রয়েছেন। তবে কলেজ শাখায় কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নেই। বেশিরভাগ শ্রেণিকক্ষে ঝুলছে তালা। শুধু একটি কক্ষে স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ফ্রি টেস্ট পরীক্ষা চলমান থাকতে দেখা যায়। কলেজটির ব্যবসায়ী বিভাগের শিক্ষক সুমন বিশ্বাস জানান, নন-এমপিওভুক্ত হওয়ায় তারা সরকার থেকে কোনো বেতন-ভাতা পান না। অসচ্ছলতা ও জীবনযাত্রার সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে কষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে বের হলেও ক্লাসে উপস্থিত হন না এমনকি সেদিন ৬ জন শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও কোনো শিক্ষার্থী আসেননি বলে স্বীকার করেন তিনি।

স্থানীয় যুবকদের অভিযোগ, শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির রাজনীতি এবং চরম উদাসীনতার কারণেই প্রতিষ্ঠানটির এই বেহাল দশা। স্থানীয় বাসিন্দা আশিক ভুঁইয়া বলেন, শিক্ষক ও কমিটির গাফিলতির কারণে নতুন ছাত্র ভর্তিতে কোনো উদ্যোগ নেই। অভিভাবকদের সঙ্গেও তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হয় না।

আরেক তরুণ ইমন জানান, কলেজটি নন-এমপিও হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কেউ নিয়মিত আসেন না। প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হলে এবং তদারকি বাড়লে পরিস্থিতির উন্নয়ন হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা তাসিন বলেন, এখানে পড়াশোনার কোনো পরিবেশই নেই। নামেমাত্র কলেজ থাকলেও কোনো ক্লাস হয় না। এখানকার ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত ক্লাস না করে অন্য কলেজে চলে যান।

এব্যাপারে কলেজটি অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম অসুস্থ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কলেজটির সভাপতি ও নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমাকে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।

তবে পিরোজপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী আযিযী বলেন, যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, সেখানে শিক্ষকদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনপিবি নিউজ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top