‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গরুভোজে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পশু জবাই নিষিদ্ধের বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও বিক্ষোভের পর গরুভোজ কর্মসূচির আয়োজন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ৩টা থেকে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে গরুর মাংস ও খিচুড়ি বিতরণ শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় ছয়টি বুথের মাধ্যমে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। খাবারের বিতরণের লাইন শহীদ মিনার থেকে জবির প্রধান ফটক পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। এ কর্মসূচিতে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন। খাবার বিতরণে কাজ করছেন ৫০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবক।
‎
‎আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির জন্য একটি গরু ও একটি ছাগল কেনা হয়েছে। নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে পাঠানো টোকেন নম্বরের ভিত্তিতে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। শুধু নিবন্ধন সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরাই এ খাবার গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানান আয়োজকেরা। কর্মসূচি আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলেও তাঁদের দাবি।
‎
‎এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আজম খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
‎
‎এ বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ‘জবিয়ানদের গরুভোজ কর্মসূচি’ আয়োজনের ঘোষণা দেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের ৭০ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
‎
‎পরে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া, নৈশভোজের ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক উসকানিতে রূপ দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় গরু ও খাসির মাংস অন্তর্ভুক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি নিশ্চিত করাসহ চার দফা দাবি জানানো হয়।
‎
‎এর আগে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অনার্সজীবনের শেষ স্মৃতি ধরে রাখতে একটি ফিস্ট পার্টির আয়োজন করেন। গ্যাস সংকটের কারণে ক্যাফেটেরিয়ায় রান্না সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে মুক্তমঞ্চের সামনে গরুর মাংসের ভুনা খিচুড়ি রান্নার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বী কয়েকজন শিক্ষার্থীর বাধার মুখে পড়েন আয়োজকেরা। পরে রান্নার স্থান পরিবর্তন করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সামনে নেওয়া হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ ওঠে এবং বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
‎
‎তবে আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের গরুভোজ কর্মসূচিতে কোনো বাধার ঘটনা ঘটেনি।
‎
‎এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আজম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডেইলি ক্যাম্পাস

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top