সংবিধান সংশোধনে সবার মতামত নেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বরিশাল জার্নাল

সংবিধান সংশোধনের আগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ, বিচারক ও সাবেক বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তিত্ব এবং গত ১৭ বছরে গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ মঙ্গলবার সংবিধান সংশোধন কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বৈঠকে অনেক মূল্যবান মতামত পেয়েছি। এর মধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য মতামত রয়েছে, যেগুলো আমরা বিবেচনা করতে পারি। কমিটির বৈঠকে এসব নিয়ে আলোচনা করা হবে। লিখিত বক্তব্যগুলো জমা হওয়ার পর আমরা একসঙ্গে সেগুলো নিয়ে বসব।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইন বিশেষজ্ঞ, বিচারক, সাবেক বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তিত্ব, যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবার এবং গত ১৭ বছরে যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন তাদের পরিবারের সঙ্গে আমরা বসব।’

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কাছ থেকে একটি চিত্র নেওয়ার চেষ্টা করব। এরপর সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হবে। সংসদে উত্থাপনের পর সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে আলোচনা হবে। তখন সংসদের ভেতরে ও বাইরে আবারও মতামত তৈরি হবে। এভাবেই একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে গ্রহণ করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’

বিরোধী দলের প্রতি সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিরোধী দলের সঙ্গে আমাদের আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত। আমরা আহ্বান জানাই, তারা যেন সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণ করেন। কারণ আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধান সংশোধন করতে চাই।’

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজন আছে কি না, এমন প্রস্তাব এসেছে। যেহেতু এটি একটি একক রাষ্ট্র এবং আমাদের সংবিধানে বলা আছে এখানে অঙ্গরাজ্যের ব্যবস্থা নেই, সেই বিবেচনায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যায় কি না, সে প্রস্তাবও এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেহেতু জুলাই জাতীয় সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছি, সেই হিসেবেই আমরা এগোতে চাই। তবে তারা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দল, সেটি বিবেচনা করলে তখন বিষয়টি দেখা যাবে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নিয়ে আরও আলোচনা ও প্রস্তাব প্রয়োজন বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, পদ্ধতি ও রূপ সম্পর্কে আমাদের ওপেন ডিসকাশন ও প্রস্তাব দরকার। যেটিকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য বিবেচিত করা হবে, সেটিই আমরা গ্রহণ করব। আমরা এখনো এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি যে কী প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হবে।’

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top