স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিষ্ক্রিয় ভূমিকা জাতির জন্য লজ্জার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর নিয়ে নাহিদ

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেয়া এক বিবৃতিতে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দিনের পর দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা গোটা জাতির জন্য লজ্জার। প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রসূতি মা ও শিশুদের সেবা দিয়ে আসা একটি প্রতিষ্ঠান মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেয়া ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরই নিদর্শন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রাতভর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজধানীর বুকে একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এভাবে গুঁড়িয়ে দিয়ে দখলের ঘটনায় দেশে সরকারের কার্যকর উপস্থিতি নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মুখোশধারী দুই শতাধিক ব্যক্তি হামলা চালিয়ে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা হয়েছে। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
নাহিদ ইসলাম হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ, রাড্ডা কেন্দ্রের ভাঙচুর ও দখলের পেছনে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এবং মহানগর উত্তর বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ইন্ধন রয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই প্রয়োজন।
এর আগে ফেরদৌসী আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ভাঙচুরের সঙ্গে তিনি জড়িত নন এবং ঘটনার আইনগত তদন্ত হওয়া উচিত।
প্রায় ৫০ বছর ধরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা এবং শিশুদের টিকাদান দিয়ে আসছিল। হামলার পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
স্টার নিউজ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top