মক্কায় হামলা হলে ব্যবস্থা নিতে কোন চুক্তির দরকার নেই, পাকিস্তানের হুশিয়ারি

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

মক্কা ও সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান তার দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। এসময় তিনি আরো মন্তব্য করেন যে মক্কায় হামলা হলে প্রতিরক্ষায় কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই, কেননা পবিত্র স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পাকিস্তান নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করে।

বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন যে, ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় নিজেদের দায়িত্ব পালনে দেশটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

এর আগে বুধবার জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মক্কা চুক্তি আমাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য এবং আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করে সম্মিলিত প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

খাজা আসিফের এ বক্তব্যের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয় বলে জানানো হয়।

তবে হুথিরা মক্কা কিংবা কোনো ইসলামি পবিত্র স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জিও নিউজের বরাত দিয়ে খাজা আসিফ বলেন, “মক্কায় হামলা হলে সেটিকে রক্ষার জন্য কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই।” পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চুক্তি থাকুক বা না থাকুক পাকিস্তানের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, তিন দেশের কোনো একটির ভৌগোলিক সীমা বা আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘিত হলে চুক্তির পারস্পরিক প্রতিরক্ষার ধারা কার্যকর হবে। এ বিষয়ে “কোনো ধরনের অস্পষ্টতা নেই” বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে পাকিস্তান প্রকাশ্যে তাদের প্রতিরক্ষা বা সামরিক কৌশলের বিস্তারিত আলোচনা করবে না বলে জানান মন্ত্রী।

ইরানকে সৌদির বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান

খাজা আসিফ জানান, সৌদির পক্ষ থেকে দেওয়া বার্তা পাকিস্তান ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের হামলা এবং এর জেরে আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এ বার্তা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, “আমি মনে করি না, রাষ্ট্র হিসেবে ইরান আরেকটি ফ্রন্ট খুলবে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলের একটি সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে।

তবে ইরানি রাষ্ট্র এবং অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এসব গোষ্ঠী কোনো রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা সমর্থনের অপেক্ষা না করেও নিজেদের মতো করে কর্মকাণ্ড চালাতে পারে।

হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যকার সংঘাতে ইরানের সরাসরি পক্ষ নেওয়া তেহরানের জন্য বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত হবে না বলেও মন্তব্য করেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

সংঘাত যাতে নতুন কোনো অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য পাকিস্তান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।

হরমুজ ও বাব-এল-মান্দেবে নৌপথে বাধা নিয়ে উদ্বেগ

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে খাজা আসিফ বলেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি বিভিন্ন দেশের নিজেদের নিরাপত্তা চাহিদা মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া একটি ব্যবস্থা।

ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে আরও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে উঠতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে এটি তার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ, কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার ভিত্তিতে দেওয়া তথ্য নয় বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

তার মতে, অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হুমকি বাড়লে আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করতে পারে।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ও বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পুরো অঞ্চলের বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে বাব-এল-মান্দেব।

বিশেষ করে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, সংঘাতের পরিধি প্রাথমিক আলোচনার বিষয়গুলোর বাইরে গিয়ে এখন আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যপথের নিরাপত্তাকেও বড় উদ্বেগে পরিণত করেছে।

এর আগে বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় তার দেশের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। মক্কার পবিত্র স্থাপনার বিরুদ্ধে কথিত ড্রোন হামলার চেষ্টাকে তিনি “জঘন্য ও নিন্দনীয়” বলে উল্লেখ করেন এবং সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়ে উত্তেজনা আরও না বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top