মির্জাগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী পদে একা‌ধিক ছাত্রলীগ নেতা

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নি‌য়ো‌গ তা‌লিকায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীর নাম উ‌ঠে এ‌সে‌ছে। বিষয়‌টি নি‌য়ে নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূ‌ত্রে জানা যায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির সুপারভাইজার পদে ৭৬ জন ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে ৫৩৯ জন আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই শেষে গত বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে উপজেলা প্রশাসন মির্জাগঞ্জ ফেসবুক আইডিতে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত, রিজার্ভ ও অপেক্ষমান সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের নামের তালিকা প্রকাশ করে। তালিকায় ৯ জন সুপারভাইজার ও ৮৪ জন তথ্য সংগ্রহকারীর নাম উ‌ল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু তালিকা প্রকাশের পর বিএনপি ও সহোযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীকে বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়োগ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন এবং নিয়োগ বাতিল করে পুনঃনিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় সমাজকর্মীসহ নিয়োগ কমিটির একাধিক কর্মকর্তার যোগসাজ‌সে যোগ্যদের বাদ দিয়ে তা‌দের আত্মীয়দের প্রাধান্য দিয়ে প্রায় ৪০ জন নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীকে নিয়োগের মাধ্যমে তাদের পুর্নবাসনের সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে উপ‌জেলা ছাত্রদলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন।

উপ‌জেলা ছাত্রদল নেতা মো. কাইয়ুমের অ‌ভি‌যোগ, তালিকায় মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জাহিদুল ইসলাম রাব্বি, ৬ নম্বর মজিদবাড়িয়া ইউ‌নিয়‌নে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের সহধর্মিণী নিপা আক্তার, মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নে ছাত্রলীগ নেতা মন্জুরুল আলম এবং হৃদয় হোসেনের নাম ফ‌্যা‌মিলি কার্ড তথ‌্য সংগ্রহের তালিকায় রয়েছে।

উপ‌জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. সেজান জাকির হো‌সেন জা‌নি‌য়ে‌ছেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রাপ্তদের তথ্য সংগ্রহে সুপারভাইজার ও মাঠকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের প্রাধান্য দিয়ে নিয়োগের মাধ্যমে তাদের পুর্নবাসনের সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা নিয়োগ বাতিল করে পুনঃনিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবি জানাই। নিয়োগ বাতিল করে পুনঃনিয়োগের দাবি জানাই।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মো. শাহাবুদ্দিন নান্নুর দাবি, ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী পদে তথ্য যাচাই-বাছাইকারীদের তালিকা উপজেলা প্রশাসন করেছেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনও নেতাকর্মী তালিকায় নাম থাকলে এটা তাদের দায়-দায়িত্ব।

অ‌নিয়ম ও স্বজনপ্রী‌তির অ‌ভি‌যোগ অস্বীকার ক‌রে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মুহাম্মদ আমিনুল ইসলামের ভাষ‌্য, আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, মৌখিক এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রাথমিক নিয়োগ প্রাপ্তদের কারো বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি বা গুরুতর অভিযোগ থাকলে নিয়োগ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিতভাবে জানালে নিয়োগ কমিটি অভিযোগগুলো তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। নিয়োগ কমিটির সদস্যবৃন্দ কেউ স্থানীয় বাসিন্দা নন।

অপর‌দি‌কে নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল জানান, তালিকায় যাদের নাম প্রকাশ হয়েছে তাদের মধ্যে কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ কিংবা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কারো নাম থাকলে চূড়ান্ত তালিকায় তাদের নাম সংশোধন করার সুযোগ রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আগামীর সময়

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top