ঢাবিতে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলার পিশাচ মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলার পিশাচ মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’। শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে বিগত সরকারের শাসনামলে শোষণ, নিপীড়ন ও স্বৈরাচারের বিভিন্ন দিক প্রতীকীভাবে তুলে ধরতে ১৪ ও ১৫ আগস্ট এ আয়োজন করেছে ৬৫টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্মিলিত জোট ‘বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্য’।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় মেলার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট ড. মাহবুব হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শহীদুল জাহিদ, আবৃত্তিশিল্পী ও গবেষক এবং জাসাসের সাবেক সহ-সভাপতি নাসিম আহমেদ, আবৃত্তিশিল্পী ও প্রশিক্ষক শায়লা নাসিম, বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক মৃন্ময় মিজান, কবি ও সংগঠক মুন্সি বোরহান মাহমুদ, জুলাই যোদ্ধা ও বাংলাদেশ আজাদ পার্টির প্রচার সম্পাদক শামিম হাসান এবং জুলাই সংগঠক ডিউক হুদাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শামিম হাসান জানান, সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনা ও চরিত্রকে শিল্পকর্মের মাধ্যমে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করা এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। এসব চরিত্রকে ‘পিশাচ’ হিসেবে চিত্রিত করে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, বিগত সরকারের সময়কার শোষণ, নিপীড়ন ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের ঘটনাগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সংস্কৃতির ভাষাকে কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ। প্রতীকী শিল্পকর্মের মাধ্যমে এসব চরিত্র ও ঘটনাকে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা ‘বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্য’র প্রশংসা করেন।

বক্তারা আরও বলেন, একটি জাতির ইতিহাস কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না; শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও গণমানুষের স্মৃতির মধ্য দিয়েও তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সত্যিকার ইতিহাসের আলোকে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করতে এ ধরনের সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমী আয়োজন আরও বেশি প্রয়োজন।

আলোচনা শেষে অতিথি ও সংস্কৃতিকর্মীরা মেলার বিভিন্ন স্টল ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা প্রদর্শিত বিভিন্ন প্রতীকী শিল্পকর্ম পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিন প্রদর্শনী প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে বিভিন্ন প্রতীকী শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এসব শিল্পকর্মে বিগত সরকারের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিপীড়ন ও বিতর্কিত চরিত্রকে ব্যঙ্গাত্মক ও প্রতীকী রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। মেলায় আসা দর্শনার্থীরা বিভিন্ন স্টলে ঘুরে ঘুরে এসব শিল্পকর্ম দেখছেন এবং প্রদর্শিত চরিত্রগুলোর পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।

বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শামিম হাসান জানান, দর্শনার্থীদের সম্পৃক্ত করতে প্রদর্শনীতে বিশেষ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শিত ‘পিশাচ’ চরিত্রগুলোর নাম শনাক্ত করে সর্বোচ্চ সংখ্যক নাম ‘বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্য’র ফেসবুক পেজে পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে। বিজয়ীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রচলিত রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে একটি সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে আগ্রহী ও সচেতন করে তুলতে মেলার মাধ্যমে ভিন্নধর্মী বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

দুই দিনের এ আয়োজনে প্রদর্শনীর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রাখা হয়েছে। শনিবার বিকেলে দেশজ সংস্কৃতির বিভিন্ন পরিবেশনা নিয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে আবৃত্তি, গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন সংস্কৃতিকর্মীরা।

আমার দেশ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top