আমতলী (বরগুনা) থেকে সংবাদদাতা
বরগুনার আমতলীতে খাল খনন কর্মসুচীতে উদ্বৃত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ওই প্রকল্পের বেঁচে যাওয়া ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ফখরুদ্দিন তহসিন মৃধা বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক নেতা ও আমলারা মিলে কাজ না করে সমুদয় টাকা খেয়ে ফেলতো। আর এ সরকারের আমলে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজ শেষে সরকারী কোষাগারে টাকা ফেরত দিয়েছেন।
আরেক সংবাদকর্মী মোঃ রাশিমুল হক রিমন বলেন, এমন দৃশ্য আমতলীতে এটাই প্রথম। কোন ইউএনও কাজ শেষে সরকারী কোষাগারে টাকা ফেরত দিয়েছেন এমন কথা শুনিনি ও নজির দেখিনি। প্রত্যেক রাজনৈতিক নেতা ও সরকারী কর্মকর্তারা এমন হলে দেশ এগিয়ে যেতে বেশী দিন লাগবে না।
জানাগেছে, অতিদ্ররিদ্র জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান প্রকল্পে আমতলী উপজেলায় দুইটি খাল খননের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গত 8 এপ্রিল কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেওয়াবুনিয়া খালের ৩ কিলোমিটার খাল খননের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা এবং হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খালের ২ কিলোমিটার খননের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেয়।
৩৯৭ জন হতদরিদ্র উপকারভোগী এ খনন কাজ করেছেন। খান খনন কাজের দেখভাল করেছেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী। খাল খনন শেষে ইউএনও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করেছেন। খাল খনন ও বৃক্ষ রোপন শেষে উদ্বৃত্ত ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন ইউএনও।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত শনিবার সারা দেশ থেকে ৮৪ জন ইউএনওকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য ডেকে নেন। সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পান জাফর আরিফ চৌধুরী। পরে প্রধানমন্ত্রী তাদের মুখে খাল খননের সুফল ও সৌন্দর্য বর্ধনের কথা এবং উপজেলার উন্নয়নের বিভিন্ন পরামর্শের কথা শেনেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কর্মকান্ডের দিক নির্দেশনা দেন।
কেওয়াবুনিয়া খাল পাড়ের বাসিন্দা ও উপকারভোগী এইচএম কাওসার মাদবর বলেন, এ খাল খননে অন্তত ২০ হাজার কৃষক উপকৃত হচ্ছে। আগে শুকনো মৌসুমে কৃষকরা পানির অভাবে রবি শস্য চাষাবাদে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতো,এখন আর সেই সমস্যা রইলো না।
একই এলাকার বাসিন্দা রুবেল হাওলাদার বলেন, এ খালের পানি ব্যবহার করে কৃষকরা প্রতিবছর শত কোটি টাকার ফসল ফলাতে সক্ষম হবে। তারা আরো বলেন, খাল খননে যেমন পানির সমস্যা সমাধান হয়েছে, তেমনি খালের পাড়ে বৃক্ষ রোপন করায় এলাকা সৌন্দর্য বর্ধিত হয়েছে। এমন উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ভুয়াসী প্রশংসা করেন তারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দিক নির্দেশনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যাদেশ মোতাবেক খাল খনন কাজ শেষ করেছি। এতে খাল খাল খনন শেষে সরকারী কোষাগারে টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, খাল খনন প্রধানমন্ত্রীর একটি মহতী উদ্যোগ। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করেছি। সৌন্দর্য বর্ধনে খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রোপন করেছি।
তিনি আরো বলেন, অতিদ্ররিদ্র জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী আমতলী উপজেলার দুইটি খাল খননে ১’কোটি ২৮ লাখ ৮৩৭ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। নির্দেশনা মোতাবেক খাল খনন ও বৃক্ষ রোপন শেষে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে। এমন কাজের জন্য প্রধানমস্ত্রী আমাকেসহ ৮৪ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ডেকে সৌজন্য সাক্ষাত করে ভালো কাজের উৎসাহ ও ভুয়াসী প্রশাংসা করেছেন এবং উপজেলার উন্নয়নে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।




