ইয়ামালের প্রেমিকা কে এই গার্সিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের শিরোপা জয়ের পর আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে ভক্তদের মধ্যে। বিশেষ করে তার প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া সান্তোসকে নিয়ে চলছে আলোচনা।

১৯ বছর বয়সী ইয়ামালকে মনে করা হচ্ছে বর্তমানে ফুটবলের অন্যতম তারকা হিসেবে। বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা ইয়ামালের মাত্র ১৫ বছর বয়সে ক্লাবটির মূল দলে অভিষেক হয়। এরপর দ্রুতই দলের নিয়মিত সদস্য হয়ে ওঠেন।

বার্সেলোনার হয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি স্পেন জাতীয় দলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন ইয়ামাল। ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে স্পেনের হয়ে বড় অবদান ছিল তার। সর্বশেষ তার সফলতার ঝুলিতে উঠল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পালক।

এমন সাফল্যের পর ফুটবলভক্তদের কৌতূহল ছিল, ইয়ামালের জীবনে বিশেষ কেউ আছেন কি না। জানা গেছে, বর্তমানে তিনি ইনেস গার্সিয়া সান্তোসের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সরব উপস্থিতির দেখা মেলে এ ঝুঁটির। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেই তাদের পরিচয় হয়।

ইনেস স্পেনের একজন জনপ্রিয় ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ফ্যাশন ও বিউটি ইনফ্লুয়েন্সার। ২০০৫ সালে স্পেনের সেভিল শহরে তার জন্ম।

ইনেস মূলত ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে ফ্যাশন হুল, মেকআপ টিউটোরিয়াল, স্কিনকেয়ার রুটিন এবং দৈনন্দিন লাইফস্টাইল কনটেন্ট শেয়ার করেন। একজন সুপরিচিত মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে তিনি ‘ইয়েপোদা’, ‘ওমেনস সিক্রেট’, ও ‘আলি এক্সপ্রেস’-এর মতো নামী আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কোলাবোরেশন বা বিজ্ঞাপন ক্যাম্পেইনে কাজ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার নিজস্ব একটি বড় ফ্যানবেজ রয়েছে, যেখানে বর্তমানে তার ইনস্টাগ্রামে প্রায় ২.৬ মিলিয়ন এবং টিকটকে ২ মিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে।

গত মে মাসে বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা উদযাপন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে যোগ দিয়ে নিজেদের সম্পর্ক সবার সামনে আনেন ইয়ামাল ও গার্সিয়া। এরপর বিশ্বকাপজুড়েই গার্সিয়া গ্যালারিতে ইয়ামালের ১৯ নম্বর জার্সি পরে উপস্থিত থেকে তাকে অনবরত সমর্থন যুগিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার লাইমলাইটে তার জনপ্রিয়তা একরাতেই বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

নিজেদের সম্পর্কের শুরু নিয়ে ইনেস একবার বলেছিলেন, ‘আপনারা হয়তো ভাবছেন, এটি কোনো নিখুঁত বা অবিশ্বাস্য প্রেমের গল্প। যেমন—আমি তাকে কোনো দোকানে দেখেছিলাম, কিংবা কোনো সিনেমার মতো ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু আসল গল্প হলো—৩, ২, ১… সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম!’

তারা ঠিক কতদিন ধরে সম্পর্কে আছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে ২০২৬ সালে প্রথমবার প্রকাশ্যে নিজেদের সম্পর্কের কথা জানান তারা।

নিউ জার্সিতে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পর উদ্‌যাপনের সময় প্রেমিকা ইনেসের সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্ত ভাগাভাগি করেন ইয়ামাল।

ফাইনালের পর ইনেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘তুমি করে দেখিয়েছ। অভিনন্দন আমার ভালোবাসা, তুমি বিশ্বের চ্যাম্পিয়ন।’ এর জবাবে ইয়ামালও নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করেন। জবাবে ইয়ামাল লেখেন, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি, আমার ভালোবাসা।’

সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ও ইনেসের জবাব

ইয়ামাল ও ইনেসের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। টুইটার (এক্স) এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে রটে যায় যে, ইনেস তার বন্ধু গঞ্জালোর সঙ্গে দীর্ঘ ৫ বছরের একটি প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন এবং ফুটবলার ইয়ামালের জন্য তিনি গঞ্জালোকে ছেড়ে দিয়েছেন।

তবে এমন দাবির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইনেস নিজেও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে বা কোনো গুরুত্ব দিতে চাইনি। আমি এতে জড়াতে চাইনি। কিন্তু কখন থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) বা অন্য কোথাও বলা হচ্ছে যে, আমার বন্ধু গঞ্জালোর সঙ্গে আমার পাঁচ বছরের সম্পর্ক ছিল এবং আমি অন্য কারও জন্য তাকে ছেড়ে দিয়েছি?’

ইনেসের এই বক্তব্যের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ইনেসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুললেও অনেক ভক্ত ইয়ামালের পাশে দাঁড়ান।

অনেক সমর্থক ইনেসকে ইয়ামালের জন্য ‘সৌভাগ্যের প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। আবার কেউ কেউ এই জুটিকে ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় তরুণ যুগল হিসেবে আখ্যা দেন। তাদের মতে, অল্প বয়সে খ্যাতি ও চাপ সামলেও দুজন যেভাবে নিজেদের সামলাচ্ছেন, সেটি প্রশংসার যোগ্য।

স্পেন বিশ্বকাপের ফাইনালে ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জেতে। ফাইনালে তোরেস আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও পুরো টুর্নামেন্টে ইয়ামালের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। গোল বা অ্যাসিস্টের সংখ্যা দিয়ে তার পারফরম্যান্স বিচার করা যাবে না; বরং মাঠে তার পরিশ্রম, সৃজনশীলতা ও ধারাবাহিকতা ছিল নজরকাড়া।

১৯ বছর ছয় দিন বয়সে ইয়ামাল ২০২৪ সালের ইউরো শিরোপার পর এবার বিশ্বকাপজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। এর মাধ্যমে ফুটবলের ভবিষ্যৎ তারকাদের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি।

এদিকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা আলোচনা চললেও ইয়ামাল এসব থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। তার পুরো মনোযোগ ছিল দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে। এখন ফুটবলবিশ্বের নজর এই তরুণ স্প্যানিশ তারকার দিকে—যিনি মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরো ও বিশ্বকাপের মতো দুটি বড় শিরোপার মালিক হয়েছেন।

কালবেলা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top