বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
বরিশালে আবাসন ব্যবসায়ীর অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে সই নেওয়া মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে নগরীর সদর রোড থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম।
এর আগে গত ২৭ জুন সন্ধ্যার আগে নগরীর সদর রোডের অগ্রণী হাউজিং (আবাসন) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক ও ছয় পাতার দলিলে সই নেন লিটু। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আজিজ আদালতে একটি মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ জুন সন্ধ্যায়। ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে নগরীর সদর রোডে অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ওপর হামলা করা হয়। শনিবার রাতে ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনায় আসে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, চারজন ব্যক্তি আব্দুল আজিজের কক্ষে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু তাকে মারধর করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে দুটি চেক, একটি সাদা চেক ও সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেন বলে অভিযোগ। এ সময় কক্ষে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার দাবি করেন, লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরবর্তীতে বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে সব হিসাব চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হয় এবং এ সংক্রান্ত অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়। এরপরও লিটু এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আজিজের অভিযোগ, ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটুসহ কয়েকজন তার কার্যালয়ে ঢুকে মারধর করে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেন। পরে তিনি ব্যাংকে অভিযোগ করায় ওই চেক থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।
আব্দুল আজিজ জানান, এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ তিনিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলেও জানান।
তবে গ্রেফতারের আগে অভিযোগ অস্বীকার করে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বলেছিলেন, ঘটনার সময় উপস্থিত সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন। তার অভিযোগ, আব্দুল আজিজ প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সেই টাকা আদায়ের জন্য তিনি এ কাজ করেছেন।
যুগান্তর




