ক্রীড়া ডেস্ক
দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষকের মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয়ে প্রথম দল হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। আজ গুয়াদালাহারার বিখ্যাত এস্তাদিও স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এ’-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে মেক্সিকান তারকা লুইস রোমোর করা একমাত্র গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারানো মেক্সিকো এই টানা দ্বিতীয় জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার আগে শেষ ৩২ বা নকআউট পর্বের টিকিট কাটল। অন্যদিকে, এই হারের পর দক্ষিণ কোরিয়ার পয়েন্ট ৩-এ আটকে রইল।
বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় দ্বিতীয় অর্ধেকের শুরুতেই ঘটা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ম্যাচের ৫০ মিনিটের মাথায় দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সুং–গিউ একটি ক্রস ধরতে নিজের গোলপোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। তবে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর সঠিক বোঝাপড়া না থাকায় তিনি নিজের এক সতীর্থের সঙ্গেই ধাক্কা খান এবং বল হাত থেকে ফেলে দেন। বক্সের ভেতর অরক্ষিত বল পেয়ে মেক্সিকান ফরোয়ার্ড লুইস রোমো একটুও ভুল করেননি। দারুণ এক বুদ্ধিদীপ্ত ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দলকে উল্লাসে ভাসান তিনি। গোলটি ছিল পুরোপুরি দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণ ও গোলরক্ষকের চরম সমন্বয়হীনতার ফল, আর রোমো সেই ভুলের সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগান।
এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে কোনো দলই ফিনিশিং লাইনে গিয়ে সফল হতে না পারায় প্রথমার্ধ শেষ হয়েছিল ০-০ সমতায়। প্রথমার্ধে দুই দলই সুযোগ পেয়েছিল এগিয়ে যাওয়ার, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলটি পায়নি কোনো দল। যেহেতু দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠে নেমেছিল, তাই এই ম্যাচের ওপর গ্রুপ ‘এ’-এর ভাগ্য অনেকখানি নির্ভর করছিল।
ম্যাচের লাইভ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া বল দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও মেক্সিকোর আক্রমণগুলো ছিল অনেক বেশি কার্যকরী। কোরিয়া দলের ৫৫ শতাংশ বল দখলের বিপরীতে মেক্সিকোর দখলে ছিল ৪৫ শতাংশ বল। কোরিয়া ৫৩১টি পাস (৮৭% নিখুঁত) সম্পন্ন করলেও মেক্সিকোর ৪৩২টি পাসের (৮২% নিখুঁত) সামনে তাদের রক্ষণভাগ বারবার কেঁপে উঠেছে। দুই দলই সমান ৮টি করে শট নিলেও মেক্সিকো অন-টার্গেটে ৪টি শট রাখতে পেরেছে, যেখানে কোরিয়ার অন-টার্গেট শট ছিল মাত্র ২টি। এ ছাড়া কোরিয়া অফসাইডের ফাঁদে পড়েছে ৬ বার, আর মেক্সিকো ৩ বার। ফাউলের দিক থেকে মেক্সিকো ৯টি এবং কোরিয়া ৮টি ফাউল করেছে, যার মধ্যে কোরিয়ার খেলোয়াড়দের ২টি হলুদ কার্ড দেখতে হয়েছে।
১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর লাইভ উইন প্রবাবিলিটি অনুযায়ী মেক্সিকোর জয়ের সম্ভাবনা ৯৬.২ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে তারা। মেক্সিকোর দুই ম্যাচে মোট পয়েন্ট ৬ হওয়ায় এবং গ্রুপের অন্য দুই দল দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রজাতন্ত্রের পয়েন্ট ১ করে থাকায় মেক্সিকোর শীর্ষ দুইয়ে থাকা এখনই নিশ্চিত হয়ে গেছে। এর ফলে মেক্সিকোই সবার আগে এই গ্রুপ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে সক্ষম হলো।




