বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের প্রত্যাবর্তন শুধু তার নিজের ক্যারিয়ার বা বলিউডের ব্যবসাকেই নতুন গতি দেয়নি, বদলে দিয়েছে তার মতো দেখতে অনেক মানুষের জীবনও। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ইব্রাহিম কাদরি, যিনি এখন ‘ডুপ্লিকেট শাহরুখ’ হিসেবেই বেশি পরিচিত।
২০২৩ সালে ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ এবং পরে ‘ডানকি’ দিয়ে শাহরুখ খান বক্স অফিসে দাপট দেখান। বিশেষ করে ‘জওয়ান’ মুক্তির প্রথম দিনেই ৭৫ কোটি রুপি আয় করে হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড গড়ে। শাহরুখকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হওয়া উন্মাদনার প্রভাব পড়ে তার মতো দেখতে শিল্পীদের জীবনেও। সেই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ইব্রাহিম কাদরি।
ভারতের গুজরাটের জুনাগড়ের বাসিন্দা ইব্রাহিম কাদরি ছোটবেলা থেকেই মানুষের কাছ থেকে শুনে এসেছেন, তিনি দেখতে অনেকটা শাহরুখ খানের মতো। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, ‘যখন আমার ১৫-১৬ বছর বয়স ছিল, তখন থেকেই সবাই আমাকে শাহরুখ খান বলে ডাকত। স্কুল-কলেজে পড়ার সময়ও একই কথা শুনতে হতো।’
তবে তার জীবন শুরুতে মোটেও আলো ঝলমলে ছিল না। সংসারের প্রয়োজনে তিনি দেয়াল রং করা, হোর্ডিং তৈরি এবং দোকানের সাইন বোর্ড আঁকার কাজ করতেন। ইব্রাহিম উল্লেখ করেন, ‘বাড়িতে খুব বেশি কিছু ছিল না, যা আয় করতাম, তা খাবার আর বিল মেটাতেই চলে যেত।’
২০১৭ সালে শাহরুখ অভিনীত ‘রইস’ মুক্তির পর তার জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। সে সময় তার চেহারা, গোঁফ-দাড়ি অনেকটাই ‘রইস’-এর শাহরুখের মতো ছিল। ইব্রাহিমের ভাষ্য, ‘মানুষ আমাদের দেখলে পাগল হয়ে যেত। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার পরিচিতি বাড়তে শুরু করে। ফলোয়ার বাড়ে। বিভিন্ন জায়গায় গেলে মানুষ চিৎকার করত, কাঁদত, এমনকি টানাটানিও করত। শুরুতে এসব কীভাবে সামলাতে হয়, বুঝতাম না।’
একবার রাজকোটের খান্ধেরি স্টেডিয়ামে ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে গিয়ে ভক্তদের ভিড়ে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে ছিলেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। সেই ঘটনার পরই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে শুরু করেন ইব্রাহিম।
তিনি বলেছেন, ‘এরপর আমি শরীরের গঠন, স্টাইলিং, এমনকি নাচ নিয়েও কাজ শুরু করি। আগে নাচ জানতাম না। শাহরুখের সিনেমা শুধু বিনোদনের জন্য নয়, শেখার জন্যও দেখতে শুরু করি। মানুষ আমাকে যেভাবে দেখতে চায়, সেটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
বর্তমানে জন্মদিন, বিয়ে ও বিভিন্ন করপোরেট অনুষ্ঠানে শাহরুখ খানের আদলে পারফর্ম করেন ইব্রাহিম। একসময় যেখানে শাহরুখের অনুকরণকারীরা একটি অনুষ্ঠানের জন্য ২ হাজার থেকে ৫ হাজার রুপি পারিশ্রমিক পেতেন, সেখানে এখন তিনি একেকটি অনুষ্ঠানের জন্য দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ রুপি পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘অনেকে আমাকে ডুপ্লিকেট, লুকঅ্যালাইক বা কপিক্যাট বলে। শুরুতে খারাপ লাগত। এখন মনে করি, অনুকরণও একটি শিল্প। আমি কোনো সস্তা সংস্করণ নই। আমি একটি মানদণ্ড তৈরি করেছি। এখন মানুষ আনন্দের সঙ্গেই সেই মূল্য দেয়।’
মজার বিষয় হলো, যার সঙ্গে এত মিল, সেই শাহরুখ খানের সঙ্গে এখনো দেখা করার চেষ্টা করেননি ইব্রাহিম। কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছেন, ‘শাহরুখের সঙ্গে দেখা করা আমার কাছে ফেরারি গাড়ির স্বপ্নের মতো। স্বপ্ন দেখার মধ্যে যে রোমাঞ্চ আছে, সেটা হারাতে চাই না।’
বর্তমানে ৪৯ বছর বয়সী ইব্রাহিম এখনো অবিবাহিত। তার ভাষ্য, ‘আমি কখনো নিজেকে বুড়ো মনে করি না। বাচ্চাদের সঙ্গে খেলি, হাসি। সেটাই আমাকে তরুণ রাখে। পরিবারকে বলেছি অপেক্ষা করতে। আমি এখনো এই যাত্রাটাই উপভোগ করতে চাই।’
শাহরুখ খানের জনপ্রিয়তা যেমন কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছে, তেমনি তার সঙ্গে চেহারার অদ্ভুত মিল এক সাধারণ মানুষের জীবনও আমূল বদলে দিয়েছে। ইব্রাহিম কাদরির গল্প সেই বাস্তবতারই এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ।




