নেছারাবাদে বিদ্যুতের চরম বিপর্যয়, ভুগছেন ৩০ হাজার গ্রাহক

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলায় উচ্চ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি বৈদ্যুতিক ফিডারে চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা গড়ে ৪-৫ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি কিংবা বাতাস হলেই দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে পুরো এলাকা, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন ও কৃষি উৎপাদন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে মোট ৫০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন, যাদের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য চারটি উচ্চ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক ফিডার রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পশ্চিম পাড়ের ৪টি ফিডারের মধ্যে দুটি ফিডারে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও বাকি দুটি ফিডারে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ সংকট চলছে।

সংকটকবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে- পঞ্চবেকী বাজার হয়ে রাজাবাড়ী, বিন্না, বলদিয়া এলাকার বড় অংশ এবং দৈহারীর ঠাকুরহাওলা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল। এছাড়া সুটিয়াকাঠি বয়েজ স্কুল থেকে বৈঠাকাঠা কাজীর পূর্বপাড় পর্যন্ত বিস্তৃত অপর ফিডারটিতেও একই অবস্থা। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে সামান্য বৃষ্টি বা ঝড়ো বাতাসেই শুরু হয় বিদ্যুতের লুকোচুরি। এমনকি বড় ধরনের কোনো দুর্যোগ বা বন্যার সময় অনেক ক্ষেত্রে ১০-১৫ দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

গ্রাহকদের অভিযোগ, চাঁদ মিয়া স্কুল থেকে নান্দুহার এবং ইন্দুরহাট বাজার হয়ে নাওয়ারা পর্যন্ত অন্য দুটি ফিডারে তুলনামূলকভাবে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় থাকে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ ওই এলাকাগুলোতে বসবাস করায় সেখানে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়, আর গ্রামীণ অঞ্চলের ৩০ হাজার গ্রাহককে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে। বিষয়টি কৌঁড়িখারা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারকে (ডিজিএম) বারবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বিন্না গ্রামের বাসিন্দা কৃষক রতন দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দিনে ৩-৪ ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাই না। সেচ পাম্প চালানো ও ধান ভাঙানোসহ আমাদের কৃষিকাজে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

একই এলাকার বলদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. কামাল হোসেন বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তাও আবার কয়েক মিনিট পরপর চলে যায়। এই গরমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মচারী জানান, আগে বছরে কয়েকবার বৈদ্যুতিক লাইনের পাশের গাছপালা পরিষ্কার করা হলেও বর্তমানে তা নিয়মিত করা হয় না। ফলে সামান্য বৃষ্টি বা গাছের ডাল লাইনে স্পর্শ করলেই ট্রিপ করে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অনেক সময় তারের ওপর ডাল পড়ে লাইন ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আগে এলাকায় এত বিদ্যুৎ সমস্যা ছিল না। ঝড়-বন্যার মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই নিয়মিত গাছপালা পরিষ্কার করা হতো এবং সরবরাহ ভালো ছিল। বর্তমান ডিজিএম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে কৌঁড়িখারা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জানে আলম বলেন, ৩ ও ৫ নম্বর ফিডারের ভৌগোলিক অবস্থান, অতিরিক্ত গাছপালা এবং গ্রামীণ এলাকা হওয়ার কারণে বৃষ্টি ও বাতাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি স্বীকার করেন যে, সময়মতো লাইনের পাশের গাছপালা পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি।

এর কারণ হিসেবে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এলাকায় ধান কাটার মৌসুম চলায় তীব্র শ্রমিক সংকট রয়েছে। ফলে লাইন পরিষ্কারের কার্যক্রমে আমাদের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

কালবেলা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top