বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ মে। এখন আলোচনায় জয়ী দলগুলো থেকে কোন ৫০ জন নারী পাচ্ছেন সংসদে বসার টিকিট। জোটবদ্ধ হয়ে ছয়টি আসনে জিতেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। হিসাব অনুযায়ী তারা পাবে একটি আসন। এছাড়া জোটসঙ্গী জামায়াত তাদের আরও একটি আসন দিতে পারে বলে আলোচনা আছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সূত্র বলছে, সবাই ইতোমধ্যে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঘোষণা না করলেও তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত বলে জানিয়েছে। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলগুলোর আসন বণ্টন চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সে হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি আসনে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
দুটি আসন পেতে পারে এনসিপি
এনসিপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জাগো নিউজকে জানান, আসনের হিসাবে এনসিপি একটি আসন পেলেও জোটসঙ্গী জামায়াত আরও একটি আসন তাদের ছেড়ে দিচ্ছে।
যেভাবে আসন বণ্টন
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ সোমবার (৬ এপ্রিল) সাংবাদিকদের জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জোটভিত্তিক বণ্টনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জোট ৩৬টি আসন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট ১৩টি আসন ও স্বতন্ত্রদের ঝুলিতে যাচ্ছে একটি।
সংসদে বিএনপির প্রতিনিধি আছেন ২০৮ জন, এনসিপির ছয়জন, জামায়াতের ৬৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দুজন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন, গণঅধিকার পরিষদের একজন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) একজন, গণসংহতি আন্দোলনের একজন ও খেলাফত মজলিসের একজন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন সাতটি আসন।
হিসাব অনুযায়ী বিএনপি ৩৫টি আসন পেলেও ৫০ সংরক্ষিত আসন পূরণ করতে সংসদের সরকারি দলকে আসন বাড়িয়ে দেওয়ার বিধান থাকায় বিএনপিকে একটি আসন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ইসির কর্মকর্তারা।
ইসি সচিব আরও জানান, জোটগতভাবে নির্বাচন করছেন ছয়জন, স্বতন্ত্র নির্বাচন যারা করেছেন তারা একজোট। বিএনপির সঙ্গে তিন রাজনৈতিক দল গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) আর জামায়াতের সঙ্গে আছে এনসিপি ও খেলাফত আন্দোলন। রুমিন ফারহানা জোটের হয়ে যাবেন না। এক্ষেত্রে বিএনপি জোট ৩৬টি আসন পাবে, জামায়াত জোট ১৩টি, আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাবেন একটি আসন।
এনসিপি থেকে আলোচনায় যারা
দলের একাধিক সূত্র বলছে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের নাম আলোচনায় আছে। ডা. মাহমুদা মিতু ও নুসরাত তাবাসসুমের নাম শোনা যাচ্ছে জোরেশোরে। তবে দলীয় প্রধান নাহিদ ইসলাম ঠিক করবেন কে কে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাচ্ছেন।
জানতে চাইলে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু জাগো নিউজকে বলেন, ‘দল ঠিক করবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনগুলো সরাসরি ভোটে নির্বাচিত না হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর আসনের আনুপাতিক হারে বণ্টিত হয়। পরে সংশ্লিষ্ট দলগুলো মনোনীত প্রার্থীদের মাধ্যমে এসব আসনে নির্বাচন সম্পন্ন করে। জাগো নিউজ




