আ. লতিফ হত্যাকাণ্ডে নিরপরাধদের ফাঁসানোর প্রতিবাদে বানারীপাড়ায় জামায়াতের বিক্ষোভ

বানারীপাড়া প্রতিনিধি:
সৈয়দকাঠি ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জামায়াতের ইউনিয়ন আমীর ও স্থানীয় ইমামসহ নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে শনিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বানারীপাড়া উপজেলা শাখা।

বিকেলে বানারীপাড়া বন্দর ফেরিঘাট সংলগ্ন ভেরিবাঁধ সড়ক থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডাকবাংলো মোড়ে সমাবেশে মিলিত হয়।সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও বরিশাল জেলা নায়েবে আমীর মাস্টার আব্দুল মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আজম খান।

উপজেলা আমীর অধ্যাপক খলিলুর রহমান শাহাদাতের সভাপতিত্বে এবং পৌর আমীর কাওসার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বানারীপাড়া উপজেলা আমীর মাওলানা মো. শিহাব উদ্দিন, উপজেলা সেক্রেটারি হাফেজ মোকাম্মেল হোসাইন মোজাম্মেল, মজলিসে মুফাসসিরিন সভাপতি মাওলানা আতিকুল ইসলামসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথি মাস্টার আব্দুল মান্নান বলেন, “একটি চক্র রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে নিরপরাধ জামায়াত নেতাদের ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা মামলায় জড়িয়েছে। এই মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”তিনি আরও বলেন, “এই মামলা নিয়ে কোনো চাঁদাবাজি বা হয়রানিমূলক কার্যকলাপ করতে দেওয়া হবে না।”অ্যাডভোকেট আজম খান বলেন “আমরা নির্যাতিত হবো না, আর কাউকে নির্যাতন ও জুলুমবাজি, মামলাবাজি করতে দেওয়া হবে না।ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা আমীর মাওলানা শিহাব উদ্দিন বলেন,“মামলা দিয়ে জামায়াতকে দমন করা যাবে না। আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ।”সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক খলিলুর রহমান শাহাদাত বলেন,“বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক সংগঠন। মিথ্যা মামলায় আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। বানারীপাড়াবাসীর কাছে শীঘ্রই মিথ্যার রাজনীতি উন্মোচিত হবে, ইনশাআল্লাহ।”

 

উল্লেখ্য, গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিজ দলের কর্মী দেলোয়ার হোসেন ঘরামির হাতে সৈয়দকাঠি ইউনিয়ন কৃষকদল সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ খুন হন। নিহতের স্ত্রী পারভিন বেগম বাদী হয়ে দেলোয়ার, তার জামাই তুহিন ও নাতি মায়েদকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ওই মামলায় সৈয়দকাঠি ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা ফেরদাউস, সাবেক আমীর হাফেজ নাজেম উদ্দিন, স্থানীয় মসজিদের ইমাম মো. জাহিদুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মামলা বানিজ্যের উদ্দেশ্যে অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকেও আসামি রাখা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top