সানাউল্লাহ সাগর
ডাকসুতে ছাত্রশিবিরের সমর্থিত সাদিক-ফরহাদ-মহিউদ্দিন পরিষদের বিজয়ে বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতিতে একটি নতুন সূচনা হলো। এই বিজয়ের ফলে রাকসু, জাকসু, চাকসু নির্বাচনে তারা মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে। এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জামাতের ভোটেও তার প্রভাব পড়বে। এর প্রভাবে জামায়াতে ইসলামীর অন্তত ২-৩% ভোট বেড়ে যেতে পারে।
তবে ছাত্রদলের এবার প্রার্থী নির্বাচন খারাপ ছিল বলে মনে করি না। তারা গতানুগতিক সভাপতি-সম্পাদককে বাদ দিয়ে তুলনামূলক ক্লিন ইমেজের ছাত্রনেতাদের মনোনয়ন দিয়েছিল; কিন্তু ছাত্রদলের নিজস্ব কোনো বয়ান ছিল না। তারা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠিত বয়ানে এগুতে চেয়েছে। কিন্তু ২৪-এর অভ্যুত্থান আওয়ামী বয়ান ভেঙে দিয়েছে। আওয়ামী বয়ান যে এখন আর মানুষ গ্রহণ করবে না সেটা আবার প্রমাণিত হলো।
বিএনপি এবং অনেক রাজনৈতিক বিশ্লষকরা মনে করেছিল, বিএনপির বিশাল ভোট ব্যাংক এবং সাথে বৃহৎ আওয়ামীবিরোধী গোষ্ঠী থাকার কারণে ছাত্রদলের প্যানেল জিতে যাবে; কিন্তু এটা প্রমাণ হলো যে, শুধু এন্টি আওয়ামী লীগ বা পুরাতন ভোটব্যাংকের হিসেবের উপর নির্ভর করে তারা এগোতে চাইলে ভুল করবে। তাদেরকে নতুন বয়ান তৈরি করতে হবে; যেটা শিবিরের বয়ানকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে এই ধাক্কা বিএনপির জন্য সুবিধা এনে দিতে পারে। তারা রাকসু, জাকসু, চাকসু নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচনের আগে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নতুন করে তৈরি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
মোটকথা, আবিদ-হামিমরা হারেনি। একটি ভালো নির্বাচন হয়েছে, যেখানে ডাকসু জিতেছে, জুলাই স্পিরিট জিতেছে। ডাকসুর এই নির্বাচন ধারাবাহিক হোক। সামনের দিনে ছাত্রদল হয়তো নিজদেরকে আরো প্রস্তুত করে ফিরে আসবে সেই প্রত্যাশা থাকলো। আর চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংঘর্ষ না হোক । সহিংসতার রাজনীতি আমরা আর চাই না।
লেখক : কবি, কলামিস্ট




