মোঃ রাজিব হোসেন
অনেক জল্পনা-কল্পনা, সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তার দোলাচলের মধ্যে অবশেষে সম্পন্ন হল ড মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদীর মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। থাইল্যান্ডের বিমসটেক সম্মেলনে যোগদানের আগ পর্যন্ত এই বিষয়টি চরম উত্তেজনার পারদ ছড়িয়েছে। বৈঠকটি হচ্ছে কিনা তার কোন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারতেছিল না। অবশেষে বাংলাদেশ ও ভারতবাসী একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনার হাতছানি দেখতে পাচ্ছেন।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকস্থলে নরেন্দ্র মোদী আগেই উপস্থিত ছিলেন এবং ডঃ মোঃ ইউনূস সভাস্থলে ঢোকার সাথে সাথেই তিনি দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান প্রদর্শন করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের উদ্ধৃতিতে জানা যায় যে, বৈঠকের প্রধান বিষয়বস্তুর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য ছিল সীমান্তে হত্যা পুরোপুরি বন্ধ করা এবং ভারতে আশ্রিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কিভাবে দেশে ফেরানো যায় সেই বিষয়ে আলোচনা। এ বিষয়ে ভারতীয় কোনো সংবাদ মাধ্যমে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু না জানা গেলেও প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব বলেছেন উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।
আমরা ১৮ কোটি বাংলাদেশীর পক্ষ থেকে নতুন স্বাধীনতার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। দেশবাসীর জন্য আরও একটি সুসংবাদ হলো বাংলাদেশ আগামী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে একমাত্র ডক্টর মোহাম্মদ ইউনূস দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। এবং দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাবনার এক উচ্চ শিখরে।
ভারত আমাদের পার্শ্ববর্তী এক বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। এটা আমাদের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য তাদের ক্ষেত্রেও তাই। পারস্পরিক দূরত্ব এবং প্রতিহিংসা পরায়ণ মন-মানসিকতা আমাদের উভয়কেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই আমরা সকল প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক চাই। এবং সেটা হতে হবে পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মানের ভিত্তিতে। বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একটি উজ্জল সম্ভাবনাময় দেশ। ডঃ মোঃ ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেভাবে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে আগামীতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
লেখক : পল্লী চিকিৎসক ও সংবাদমাধ্যম কর্মী




