বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
রামপুরা টেলিভিশন ভবনের পাশে একটি ভাড়া বাসায় একা থাকতেন সংগীতশিল্পী মনি কিশোর। শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে জানা যায় তার মৃত্যুর খবর। এদিকে আগেই লাশ কী করতে হবে, তা মনি কিশোর বলে গিয়েছিলেন একমাত্র মেয়ে নিন্তিকে।
রোববার মনি কিশোরের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা অশোক কুমার জানালেন, মনি কিশোর তার পোশাকি নাম। প্রকৃত নাম অরুণ কুমার মণ্ডল। তিনি আরও জানান, পুলিশ কর্মকর্তা বাবা অনিল কুমার মণ্ডলের ছেলে অরুণ কুমার মণ্ডল ছিলেন কিশোর কুমারের ভক্ত। ডাকনাম ছিল মনি।
কিশোর কুমারের ভক্ত ছিলেন বলে নামের সঙ্গে ‘কিশোর’ জুড়ে নিয়েছিলেন। জীবিত থাকা অবস্থায় মনি কিশোর গণমাধ্যমকে মজা করে বলেছিলেন, ‘কুমার শানু নিয়েছেন ‘ওস্তাদের’ নামের একাংশ। আমি নিয়েছি তার নামের আরেক অংশ।
নব্বই দশকের শুরুতে বিয়ে করেন মনি কিশোর। দেড় যুগ আগে তাদের দাম্পত্যজীবনের ইতি ঘটে। বিয়ের সময়ই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন মনি কিশোর। সে হিসেবে তার লাশ দাফন করা হবে বলে জানালেন ভাই অশোক কুমার। তিনি জানালেন, মনি কিশোর বেঁচে থাকা অবস্থায় তার দাফনের বিষয়টি একমাত্র মেয়ে নিন্তিকে জানিয়েছিলেন।
অশোক কুমার বলেন, মেয়ে আমার বড় ভাইকে জানিয়েছে, তার বাবাকে যেন দাফন করা হয়। এটা নাকি ওর বাবা ওকে বলে গিয়েছিল। মেয়েকে যেহেতু বলে গিয়েছে, তাই তার ইচ্ছামতো দাফনের কাজটাই করা হবে। এটা নিয়ে আমরা অন্য কোনো ধরনের সিদ্ধান্তে যাব না।
মনি কিশোর প্রায় পাঁচ শতাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। রেডিও, টিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী হলেও গান গেয়েছেন অল্প। সিনেমায়ও তেমন গাননি। মূলত অডিওতে কাজ করেছেন বেশি।
তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে ‘কী ছিলে আমার বলো না তুমি’, ‘সেই দুটি চোখ কোথায় তোমার’, ‘তুমি শুধু আমারই জন্য’, ‘মুখে বলো ভালোবাসি’, ‘আমি মরে গেলে জানি তুমি’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।




