জিব্রান কাদির, উজিরপুর
বরিশাল জেলার উজিরপুর মডেল থানা এলাকায় চাঞ্চল্যকর কাওসার হাওলাদার (৩৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র এবং আসামিদের পালিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বরিশাল জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে উজিরপুর থানাধীন সাতলা ইউনিয়নের আলমদী এলাকায় পূর্বশত্রুতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মোঃ সজল মোল্লা (৩৮), মোঃ শামিম মোল্লা (৩৬), মোঃ মেহেদী মোল্লা (২৮) এবং মোঃ ইকবাল হোসেন ওরফে নান্না (৪২)-এর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী একটি সাদা রঙের হাইয়েস মাইক্রোবাস ও একাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে আলমদী এলাকার একতা বাজারসংলগ্ন শাহআলম সরদারের বন্ধ চায়ের দোকানের সামনে উপস্থিত হয়। সেখানে তারা কাওসার হাওলাদার ও রাশেদ ওরফে আমিন হাওলাদারকে দেশীয় অস্ত্র, স্টিলের পাইপ ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।
একপর্যায়ে কাওসার ও রাশেদ প্রাণরক্ষার্থে পাশের একটি ঘরে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেই ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা কাওসারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে রেখে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা কাওসারকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পরপরই উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযানে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের গতিবিধি শনাক্ত করে ধাওয়া করা হয়।
আসামিরা মাইক্রোবাসযোগে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পুলিশ পিছু ধাওয়া করে শরীয়তপুর জেলার ‘পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা’ এলাকার টোল প্লাজার দক্ষিণ পাশ থেকে ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান আসামি সজল মোল্লাসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি সজল মোল্লার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং তাঁর দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিকের হাতলযুক্ত একটি চায়না চাপাতি, কাঠের হাতলযুক্ত একটি ধারালো কুড়াল, কালো কস্টেপ দিয়ে প্যাঁচানো একটি স্টিলের পাইপ, আসামিদের পালিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহৃত হাইয়েস মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-৮৭৫৬)।
বরিশাল জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা দায়ের এবং পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তার ও মূল রহস্য উদ্ঘাটনে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।




