বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
পটুয়াখালীতে মাদক মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়া এক আসামিকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করেছেন কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ মৃধা। এ সময় আসামি ও বিএনপি নেতার গলায় ফুলের মালা পরানোর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে মির্জাগঞ্জের কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের শিংবাড়ী এলাকায়। মাদক মামলার আসামিকে রাজনৈতিক ব্যানারে এভাবে ফুলেল সংবর্ধনা দেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল ও বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
পটুয়াখালী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাকিবুল ইসলাম রাসেল জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাদক বেচাকেনা করা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ জুলাই রাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল মির্জাগঞ্জের কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ গাবুয়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় আবদুর রহিম মিয়ার বাড়ি থেকে ২৫ পিস ইয়াবাসহ তার ছেলে মো. আবুল বাশারকে আটক করা হয়।
পরদিন ১৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। পরে তাকে মির্জাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হলে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে পটুয়াখালী কারাগারে পাঠায়।
স্থানীয়রা জানান, ওই মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সোমবার আদালত থেকে জামিন পান আবুল বাশার। ওই দিন বিকালে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে কারাগার থেকে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার সুবিদখালী থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে তাকে এলাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর শিংবাড়ীতে তাকে ফুলের সংবর্ধনা দেওয়া হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেছেন।
কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে। ইউনিয়ন সভাপতি সেখানে নিজে উপস্থিত থেকে ফুলের মালা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক ব্যানারে এমন সংবর্ধনা দেওয়া উচিত হয়নি। তিনি আরও জানান, ওই সংবর্ধনায় অংশ নেওয়া লোকজনের একটি বড় অংশ ইউনিয়ন ও উপজেলার বাইরের কাজীরাবাদ, আয়লাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছিলেন। আমি তাদের কখনো আগে দেখিনি। বিষয়টি ইউনিয়ন সভাপতি কীভাবে বা কী হিসেবে করেছেন, তা তার ব্যক্তিগত বিষয়।’
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ মৃধা বললেন, ‘পরিকল্পিতভাবে বাশারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।’ দলীয় গ্রুপিংয়ের শিকার হয়ে বাশার ওই মামলায় আটক হয়েছেন বলে দাবি তার। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিপক্ষরা ইয়াবা দিয়ে বাশারকে ধরিয়েছে আর সেই মিথ্যা মামলায় জামিন হওয়ায় আমি তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেছি। পরে আমাকেও ফুল দিয়েছে।’
এদিকে, ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন এবং তার নির্দেশেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরি করছে, সেখানে দলীয় ও সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে একজন মাদক মামলার আসামিকে ফুলেল সংবর্ধনা দেওয়া চরম ঔদ্ধত্যের শামিল। এতে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
আগামীর সময়




