জাকির ফরাজী
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে পাসের হারে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে পিরোজপুর। এ জেলায় এবার পাসের হার ৭০ দশমিক ৭২ শতাংশ। একই সময়ে বরিশাল বিভাগের গড় পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। জেলার তিনটি বিদ্যালয়ের শতভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের সাফল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পিরোজপুর জেলার ২৫৪টি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ১০ হাজার ১২২ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৯ হাজার ৮৪৫ জন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৪ হাজার ৪৩৭ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৫৩৮ জন।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬ হাজার ৯৬২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। অকৃতকার্য হয়েছে ২ হাজার ৮৮৩ জন। জেলায় এবার মোট ৩৪৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের মধ্যে ছাত্র ১২০ জন এবং ছাত্রী ২২৬ জন।
তিন বিদ্যালয়ে শতভাগ পাস
জেলার সামগ্রিক ফলাফলের পাশাপাশি তিনটি বিদ্যালয় এবার শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে। বিদ্যালয়গুলো হলো—নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গণমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শহীদস্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
সদর উপজেলার পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসিতে শতভাগ অকৃতকার্য, এলাকাজুড়ে ক্ষোভ, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিষয়টা নিয়ে অনুতপ্ত। প্রধান শিক্ষককে ১১ আগস্ট মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে রেজাল্টশীট নিয়ে আসার জন্য তলব করেছেন।
এসব বিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি ও শিক্ষকদের তদারকির ফলে এ সাফল্য এসেছে।
জিপিএ-৫-এও মেয়েরা এগিয়ে
পিরোজপুরের এবারের ফলাফলে মেয়েদের সাফল্য ছেলেদের তুলনায় বেশি। জেলায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৩৪৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২২৬ জন ছাত্রী এবং ১২০ জন ছাত্র। অর্থাৎ জিপিএ-৫ অর্জনেও মেয়েদের সাফল্য স্পষ্ট।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও মেয়েদের সংখ্যা ছিল বেশি। মোট ৯ হাজার ৮৪৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ৫৩৮ জন এবং ছাত্র ৪ হাজার ৪৩৭ জন।
বিভাগসেরা পিরোজপুর
পাসের হারে বরিশাল বিভাগের অন্যান্য জেলার তুলনায় পিরোজপুরের অবস্থান এবার সবার ওপরে। জেলার পাসের হার ৭০ দশমিক ৭২ শতাংশ, যা বিভাগের গড় পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশের চেয়ে ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক আবদুস সালাম।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, “এ বছর গড় পাসের হারে পিরোজপুর জেলার অবস্থান সবার শীর্ষে। এ জেলায় পাসের হার ৭০ দশমিক ৭২ শতাংশ।”
জেলার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা বলছেন, বিভাগীয় পর্যায়ে পিরোজপুরের এ সাফল্য নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক।
জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ ইদ্রিস আলী আযিযী বলেন, ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পিছিয়ে থাকা বিদ্যালয়গুলোর ফলাফলও উন্নত করার উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদানের মান, শিক্ষক উপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়গুলোতে নজর বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন । আমরা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করছি। জেলার কোয়ান্টিটি এডুকেশনের পাশাপাশি কোয়ালিটি এডুকেশন কেও ডিজার্ভ করি।
সামগ্রিকভাবে এবারের ফলাফলে বিভাগসেরা হয়ে পিরোজপুর যেমন সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে, তেমনি তিন বিদ্যালয়ের শতভাগ পাস এবং জিপিএ-৫-এ মেয়েদের এগিয়ে থাকার চিত্রও জেলার শিক্ষা অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।




