চরফ্যাশনে জমি নিয়ে বিরোধ, ইমামকে নারী নির্যাতন মামলায় জড়ানোর অভিযোগ

চরফ্যাশন প্রতিনিধি

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আব্বাস নামে এক মসজিদের ইমামকে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খোরশেদ মাঝির সঙ্গে তার দূর সম্পর্কীয় আত্মীয় ও প্রতিবেশী আবুল কালামের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি খোরশেদ মাঝির ছেলে, স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্বাসের বিরুদ্ধে আবুল কালামের মেয়ের করা নারী নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার একটি মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে, হাফেজ আব্বাসকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে দাবি করে সোমবার সকাল ১১টার দিকে জিন্নাগড় ইউনিয়নের দারোগার ট্যাক এলাকায় এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও হয়রানির উদ্দেশ্যে ১৯ বছর বয়সী হাফেজ ও ইমাম আব্বাসকে মামলার আসামি করেছে।

তাদের দাবি, ঘটনার দিন হাফেজ আব্বাস অভিযোগে উল্লেখিত স্থানে উপস্থিত ছিলেন না। পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

হাফেজ আব্বাসের পিতা খোরশেদ মাঝি বলেন, আমার ছেলে মাদ্রাসা থেকে হিফজ সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে সে পাশের উপজেলায় একটি মসজিদে ইমামতি করে। তার বয়স মাত্র ১৯ বছর। হাফেজ ও আলেম হওয়ায় এলাকাবাসী তাকে নিয়ে গর্ব করে। কিন্তু জমি বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ আমার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমার মালিকানাধীন ও রেকর্ডভুক্ত ২৬ শতাংশ জমি তারা জোরপূর্বক দখলে রেখেছে। এখন সেই বিরোধের জের ধরে আমার ছেলেকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে মামলার বাদীপক্ষ আবুল কালামের স্ত্রী ও তার কন্যা অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তাদের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও ঘটনার সঙ্গে হাফেজ আব্বাসের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থেই তারা মামলা করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টির সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রয়োজন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চরফ্যাশন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল কামাল বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ভিকটিমের মেডিকেল সার্টিফিকেট চাওয়া হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top