বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
আসন্ন ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন (সাপোর্ট) প্রত্যাশা করেছে নরওয়ে। বিনিময়ে দেশটির ভিসা চাচ্ছে বাংলাদেশিরা। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ঢাকাস্থ নরওয়ে দূতাবাসের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে। এই ঘটনায় নেটিজেনদের মাঝে তৈরি হয়েছে ব্যাপক হাস্যরসের। কেউ কেউ এটাকে যেমন মজার ঘটনা হিসেবে দেখছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা ১১টায় ঢাকাস্থ নরওয়ে দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুকে প্রকাশিত পোস্টে, ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে নরওয়ে ফুটবল দলের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন চাওয়া হয়। ১৯৭১ সালে বিজয় অর্জনের পর প্রথম দিককার দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশ ছিল নরওয়ে। এই বিষয়টি স্মরণ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের কেনো নরওয়েকে সমর্থন করা উচিত তার কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ ও যুক্তিও তুলে ধরা হয়।
নরওয়ে দূতাবাস বলছে, বাংলাদেশ ও নরওয়ে উভয়েই শান্তি, মধ্যস্থতা এবং জলবায়ু নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করা দেশ। একে অপরের প্রতি সম্মান, ইতিহাস এবং বন্ধুত্বের ভিত্তিতে উভয়ের অংশীদারত্ব বিদ্যমান। যেহেতু বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলছে না, তাই সমর্থন জানানোর জন্য ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া নরওয়ে সেরা দল হিসেবেও উল্লেখ করে দেশটি।
এ ছাড়া উভয়েই উপকূলীয় এবং নদী সমৃদ্ধ, মাছ পছন্দ করা দেশ হিসেবেও পোস্টে উল্লেখ করে দেশটি। এমনকি ভৌগোলিক আয়তন এবং জনসংখ্যার দিক থেকেও উভয় দেশে সাদৃশ্য দেখছে নরওয়ে। নরওয়ে বলছে, ভৌগোলিক আয়তনে বাংলাদেশ যেমন নরওয়ের তুলনায় ছোট, তেমনি জনসংখ্যার হিসেবে বাংলাদেশের তুলনায় নরওয়ে ক্ষুদ্র। এমন সব কারণে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থন চাইছে নরওয়ে।
এর জবাবে ফেসবুক পোস্টে শত শত কমেন্ট করতে থাকেন বাংলাদেশিরা। এসব কমেন্টে অনেকেই নরওয়ের প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি দেশটির ফুটবলের টিমের প্রতি শুভেচ্ছা ও শুভকামনা ব্যক্ত করেন। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবহারকারী আবার সমর্থনের বিপরীতে নরওয়ের ভিসা দেওয়ার দাবি করেছে। সাকিবুল হাসান নিরব নামে একটি ভেরিফায়েড আইডি থেকে লেখা হয় যে, আমাকে ভিসা দিন, আমি আজীবন নরওয়েকে সাপোর্ট করব। সাইফুল ইসলাম রবিন নামে একজন লেখেন, সেধে সেধে সাপোর্ট শুধু ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার জন্য। অন্যরা চাইলে ভিসা দিতে হবে।
লিমন আজাদ নামের একজন লেখেন, আপনারা শুধু ১০ হাজার ভিসা দেন, ১০০ মিলিয়ন সাপোর্টার পাবেন। জাওয়াদ হোসেন নামক একজন লেখেন, আমি যদি আপনাদেরকে সাপোর্ট করি, আপনারা কি আমাকে ভিসা দেবেন? ইমতিয়াজ আরাফাত শুভ নামে একজন লেখেন, তাহলে আপনারা আমাকে ভিসা দিন এবং আমি বাকি জীবন নরওয়ে সাপোর্ট করব। নরওয়েকে বাংলাদেশ সমর্থন করলে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ফ্রি ভিসা দেবেন। ফুটবল আপনার জন্য স্বপ্ন হলে, শিক্ষা আমাদের জন্য স্বপ্নের।
ভিসার পাশাপাশি অনেকেই নরওয়ের পতাকা এবং ফুটবল টিমের খেলোয়াড়দের জার্সি চাচ্ছেন। সিকদার ডায়মন্ড নামক একটি আইডি থেকে লেখা হয়, ফ্রি টি-শার্ট বিতরণ শুরু করেন। দুই চারটা স্ক্রিনে ফ্রি খেলা দেখান নরওয়ের।
এমন অসংখ্য কমেন্ট জমা পড়েছে নরওয়ে দূতাবাসের পোস্টের নিচে। বিষয়টিকে নিছক মজার ঘটনা হিসেবে অনেকে দেখলেও, কেউ কেউ এটাকে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন। মাইগ্রেশন, ভ্রমণ এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের পেশাজীবীরা বলছেন, এমন কমেন্টে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জনগণ সম্পর্কে নরওয়ে অফিসিয়ালদের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়ার জোরাল সম্ভাবনা আছে।
ইউরোপ দেশগুলোতে ভ্রমণ এবং ভিসা আবেদন সেবা বিষয়ক পেশাজীবী হালিমা ইয়াসমিন মুক্তা বলেন, আমরা অনেক সময়েই মজার ছলে এ ধরনের কমেন্ট করি কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ ধরনের কমেন্টে প্রথম যে বার্তা পাওয়া যায় সেটি হলো যে, আমরা বাংলাদেশিরা ইউরোপ বা উন্নত কোন দেশের ভিসা পেতে কতটা ‘ডেসপারেট’। এর প্রভাব সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের ইমেজের ওপর পড়ে। আবার এখন অনেক দেশের শর্ত থাকে যে, ভিসা আবেদনকারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পূর্ণ ‘পাবলিক’ থাকতে হবে। আপনি হয়তো আজ একটি অনাকাঙ্ক্ষিত কমেন্ট মজার ছলে করলেন এবং ভুলেও গেলেন। কিন্তু ভবিষ্যতে কোন দেশের ভিসার আবেদন করে, আজকের কমেন্টের জন্য প্রত্যাখ্যাত হতে পারেন। আপনি হয়তো বুঝতেও পারবেন না যে, সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও কেনো আপনার আবেদন বাতিল হলো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আজকের এই কমেন্ট এ জন্য দায়ী।




