রামিসার বাবা হাসপাতালে ভর্তি, দেখতে গেলেন জামায়াত আমির

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে হত্যার ঘটনায় তার অসুস্থ বাবাকে দেখতে ও সমবেদনা জানাতে হাসপাতালে গেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (১ জুন) বিকেলে তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি রামিসার বাবাকে দেখতে যান। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা অসুস্থ রামিসার বাবার সঙ্গে কথা বলেন।

জামায়াত আমিরের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, রামিসা হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে আজ এ মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের এ আদেশ আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করায় এই মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। ট্রাইব্যুনাল আগামীকাল মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন। মামলার বাদীসহ সাক্ষীগণ হাজির থাকবেন।

এদিন সকালে অভিযুক্ত সোহেল রানা ও স্বপ্নাকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে নারী হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে তাদেরকে এজলাসে নেওয়া হয়। অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর সোহেল রানা ট্রাইব্যুনালকে বলেন, তার স্ত্রীর কোনো দোষ নেই।

এর আগে, গত ২৪ মে বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক ঢাকার শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ১ জুন (সোমবার) অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে আসামির ঘরের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। দেখতে পান সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ২০ মে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। আদালতের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে সোহেল। অভিযোগপত্রে সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ-হত্যা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রমাণ ধ্বংসে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে রামিসার বাবা ও প্রতিবেশীসহ ১৮ জনকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top