কন্টেন্ট রাইটিং কী, কিভাবে লিখবেন

কন্টেন্ট রাইটিং কী (What is Content Writing in Bangla)

ইংরেজি কন্টেন্ট (Content) শব্দের বাংলা অর্থ ‘বিষয়বস্তু’। তাই কন্টেন্ট রাইটিং মানে দাড়ায় কোন বিষয়কে স্ববিস্তারে তুলে ধরা। পাঠকের জানা বা বোঝার জন্য কোন ‘বিষয়’কে তুলে ধরা। আপনি যে কোন বিষয় নিয়ে লিখবেন- পাঠক যেন আপনার লেখাটি পড়ে ওই বিষয়ে সব কিছু জানতে পারে। এটাই কন্টেন্ট রাইটিং। আবার এটা এক ধরণের সাংবাদিকতাও

লিখিত কন্টেন্ট ছাড়াও অডিও বা ভিডিও কন্টেন্টও হতে পারে। সাধারণত ইউটিউবে আমরা যেগুলো দেখি তার বেশির ভাগই ভিডিও কন্টেন্ট।

কন্টেন্ট রাইটিং –  এই বিষয়টি সামনে এলে প্রথমত দুটি প্রশ্ন জাগবে: ‘কী লিখবো’, ‘কোথায় লিখবো’।

কন্টেন্ট রাইটিংয়ের নিয়ম

কোথায় লিখবেন

লেখালেখির অনেক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। প্রথমেই আসবে দৈনিক পত্রিকা কিংবা সাময়িকীর কথা। ইন্টারনেট বিপ্লবের আগে এটাই ছিলো লেখালেখির প্রধান জায়গা। বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে লেখার সুযোগ রয়েছে। সংবাদপত্রের ভাষায় এগুলোকে বলা হয় ফিচার। ফিচার এমন একটি বিষয় যা সংবাদপত্রে চাকরি না করেও লেখা যায়।

দক্ষিণ আফ্রিকার একটি ট্রেন স্টেশনে মহাত্মা গান্ধীকে এবার ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছিল। সে বিষয়ক একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক কালের কণ্ঠে

সংবাদপত্রে ফিচার লেখার জন্য নির্দিষ্ট কিছু জায়গা থাকে। যেমন নারী পাতা, পরিবেশ বিষয়ক পাতা, স্বাস্থ্যপাতা, তরুণদের জন্য পাতা, শিক্ষা পাতা ইত্যাদি। এসব পাতা সাধারণত সপ্তাহে একবার প্রকাশ হয়। এছাড়া উপসম্পাদকীয় বা মতামত পাতায়ও লেখার সুযোগ রয়েছে। পাতাগুলো মনোযোগ পড়লেই আপনি বুঝতে পারবেন সেখানে কী ধরণের লেখা ছাপা হয়। এরপর নিজের সেরা লেখাটি ছবিসহ পাঠিয়ে দিন।

এ ধরণের লেখার জন্য পত্রিকা অফিসের সাথে যোগাযোগ থাকা জরুরী নয়। ভালো লেখা হলে সংবাদপত্র নিজের প্রয়োজনেই ছাপাবে, আবার আপনাকে লেখক সম্মানীও দেবে। উদাহরণ দিচ্ছি, দৈনিক কালের কণ্ঠের সাপ্তাহিক একটি সাপ্লিমেন্ট আছে ‘অবসরে’ নামে। একদিন পাতাটি পড়ার পর মনে হলো আমিও তো এরকম লিখতে পারি।

লেখা পাঠালাম

লেখা রেডি করার পর পরিচিত একজনের কাছ থেকে ওই পাতার বিভাগীয় সম্পাদকের ই-মেইল এড্রেস জোগাড় করি। লেখাপাঠিয়ে দেই। এরপর কোন কারণে ওই পাতাটিতে চোখ রাখা হয়নি। কয়েক মাস পর হঠাৎ একটি একটি ই-মেইল এলো। তাতে বলা হলো- আপনার একটি চেক আছে, কোন ঠিকানায় পাঠানো হবে জানান। আমি অবাক হয়ে পুরনো পত্রিকা ঘাটতে শুরু করি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিলাসবহুল সব গাড়ির সংগ্রহ নিয়ে ‘ট্রাম্প কার’ নামে ওই লেখাটি ছাপা হয়েছিলো ২০১৭ সালের মে মাসে।

এরপর কালের কণ্ঠে কয়েক বছর ফিচার লিখেছি; কিন্তু ওই পত্রিকা অফিসে কোনদিন যাইনি। বিভাগীয় সম্পাদক একদিন ফোন করে আমার সাথে পরিচিত হয়েছিলেন, কিন্তু তার সাথে কখনো দেখাও হয়নি। আমি ইমেইলে লেখা পাঠাতাম, তারা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বাসায় চেক পাঠিয়ে দিতো।

উদাহরণটা এ জন্য দিলাম যে, লেখালেখির জন্য পত্রিকা অফিসের সাথে সংযোগ থাকাটা জরুরী নয়। জরুরী হচ্ছে লেখাটা মানসম্মত হওয়া।

আরো যেখানে লিখতে পারেন

দৈনিক পত্রিকা ছাড়াও বিভিন্ন পাক্ষিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ম্যাগাজিনে লেখার সুযোগ রয়েছে। তবে এখন যেহেতু অনলাইনের যুগ- ইন্টারনেট নির্ভর অনেক প্লাটফর্ম রয়েছে লেখালেখির জন্য। আছে বিভিন্ন ব্লগ সাইট। অনেকে আবার লেখালেখির জন্য নিজেই আলাদা ওয়েবসাইট তৈরি করেন।

ভিজ্যুয়াল কন্টেন্ট: টেলিভিশন বা অন্য যেকোন ভিজ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে প্রামাণ্য চিত্রের জন্য স্ক্রিপ্ট লেখা বর্তমান সময়ে বেশ প্রচলিত একটি কন্টেন্ট রাইটিং। বিশেষ করে ইউটিউব, ফেসবুকের কল্যাণে এই অঙ্গনে লেখার চাহিদা বেড়েছে। অনেক ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে যারা ১০-১২ মিনিটের মানসম্পন্ন ডকুমেন্টারি তৈরি। এগুলোর জন্য চাই মানসম্পন্ন স্ক্রিপ্ট।

ব্লগ : ব্লগ সাইটের জন্য কন্টেন্ট লেখা যায়। অনেক ব্লগ রয়েছে যারা পাঠকের লেখা প্রকাশ করে। একটা সময় ব্লগিং বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয় একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছিলো। সেটি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও হারিয়ে যায়নি। বরং গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্লগ সাইট। এখানে নিজের ইচ্ছেমত বিষয়ে কন্টেন্ট লেখা যায়।

কন্টেন্ট রাইটিং জব

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান : অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের ওযেবসাইটের জন্য কন্টেন্ট রাইটার খোঁজে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী লিখতে হয়। আবার অনেক বিজ্ঞাপনী সংস্থাও চুক্তিভিত্তিক কন্টেন্ট রাইটার নিয়োগ করে তাদের ক্লায়েন্টের জন্য। ইংরেজীতে লিখতে জানলে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সাথেও কাজ করা যায়। সেক্ষেত্রে আপনার সামনে সারা পৃথিবীর দুয়ার খোলা থাকবে। অনলাইনে অনেক বিদেশী প্রতিষ্ঠানে কন্টেন্ট রাইটার নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেখা যায়।

প্রোডাক্ট প্রমোশন, প্রোডাক্ট রিভিউ : উৎপাদন বা বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের প্রচারের জন্য কন্টেন্ট রাইটার খোঁজে। তাদের ওয়েবসাইট কিংবা ফেসবুক পেজে এসব লেখা পোস্ট করে ক্রেতা আকৃষ্ট করতে চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে পণ্যের গুণাগুণ, ব্যবহারবিধি ইত্যাদি তুলে ধরতে হয়। আবার কোন প্রকাশনী হয়তো তাদের বইয়ের রিভিউ চাইতে পারে। সেক্ষেত্রে বইটি কেন পাঠকের পড়া উচিত, কেন সেটি ভালো লাগবে সেটি তুলে ধরতে হয়।

কী লিখবেন

কন্টেন্ট রাইটিংয়ের ক্ষেত্রে এই প্রশ্নটি শুরুতেই সবার মনে জাগে। মনে রাখতে হবে, পৃথিবীর এমন কোন বিষয় নেই যা নিয়ে লেখা যায় না। কাজেই আপনি সব কিছু নিয়ে লিখতে পারবেন; কিন্তু লেখার জন্য আপনাকে দুটি বিষয় খেলায় রাখা উচিত-

নিজের আগ্রহ ও দখল : দুনিয়ার সব বিষয় নিয়েই লেখা যায়; কিন্তু আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে- আপনার কোন বিষয়ে দখল রয়েছে। কারণ জানা-শোনা না থাকলে সে বিষয়ে আপনি ভালো লেখা তৈরি করতে পারবেন না। আর ভালো লিখতে না পারলে পত্রিকা বা প্রতিষ্ঠান আপনাকে লেখার বিনিময়ে টাকা দেবে না। তারা টাকা দিয়ে ভালো লেখাটাই কিনতে চাইবে।

এই জায়গায় প্রচুর প্রতিযোগিতা। কাজেই আপনটি যে বিষয়ে ভালো জানেন, যেটার ওপর আপনার আগ্রহ রয়েছে, সেটা বাছাই করুন। কেউ খেলাধূলা নিয়ে লেখে, কেউ লেখে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে। কেউ বা আবার দেশীয় বা স্থানীয় বিভিন্ন বিষয় নিলে লেখালেখি করে। কারো আগ্রহের বিষয় হতে পারে ইতিহাস।
এরপর সে ধরনের লেখা কোথায় ছাপা হয় সেটি খুঁজে বের করুন। প্রতিটি ধরনের আলাদা প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। আপনার আগ্রহ যেখানে, সেই পাতাটা মনোযোগ দিয়ে কিছুদিন পড়–ন। তাহলেই আপনার মাথা থেকেও নতুন নতুন আইডিয়া বের হবে।

ইউটিউব চ্যানেল BD Darpan- এর কিছু কন্টেন্ট

কর্তৃপক্ষের চাহিদা : কর্তৃপক্ষের চাহিদার বিষয়টিও খেয়াল রাখুন। আপনার হয়তো হলিউডের সিনেমার বিষয়ে কম দখল রয়েছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ চাইছে হলিউডের সিনেমা বিষয়ক কন্টেন্ট। এবার সেটা নিয়ে আপনি পড়াশুনা শুরু করুন, সিনেমা দেখতে শুরু করুন। কয়েকদিন চেষ্টা করলেই আয়ত্ব হয়ে যেতে পারে। ব্যাস, এবার লিখতে শুরু করুন।

কিছু উদাহরণ

আগেই বলেছি পৃথিবীর সব বিষয় নিয়েই কন্টেন্ট রাইটিং করা যায়। তবু লেখার বিষয়বস্তুর কিছু উদাহরণ দিচ্ছি:

১। দেশ পরিচিতি, শহর, স্থান, সংস্থা পরিচিতি (উদাহরন: ন্যাটো- এর ইতিহাস, প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট, সদস্য রাষ্ট্রসমূহ, পরিচালনা পদ্ধতি, সমরাস্ত্র, সৈন্য সংখ্যা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থ ইত্যাদি বিষয় আসতে পারে)। জাতি পরিচিতি ( যেমন- কুর্দি কারা, তারা কোথায় বাস করে, তাদের সংখ্যা, রাজনৈতিক অবস্থা, কুর্দিদের নিয়ে সঙ্কট ইত্যাদি)।
২। সমসাময়িক আলোচিত যেমন: ইউক্রেন ও রাশিয়ার সামরিক শক্তির তুলনা।
৩। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক যেমন : কাশ্মির সঙ্কট, শ্রীলঙ্কায় চীন ও ভারতের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগীতা ইত্যাদি।
৪। ক্যারিয়ার : যেমন : পাইলট হতে চাইলে কী পড়তে হবে, কোথায় পড়তে হবে।
৫ । খেলাধূলা, নারী, তারুণ্য, প্রতিরক্ষা, প্রোফাইল, সেরা ৫ (সেরা ৫ বিশ^বিদ্যালয়, সেরা ৫ স্মার্ট ফোন ইত্যাদি), তথ্য প্রযুক্তি ( কেমন হবে ৫ জি’র দুনিয়া)।

যেসব উদাহরণ দেয়া হলো, এই বিষয়গুলো আপনি ঘরে বসেই লিখতে পারেন। ইন্টারনেটে তথ্য জোগাড় করে। আবার আশপাশের কোন বিষয় নিয়েও লিখতে পারেন।

ভালো লেখার শর্ত

ভালো লেখার জন্য দুটি বিষয় মনে রাখতে হবে। আপনি কী লিখছেন? আগে সেই বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর করুন। দায়সাড়া গোছের ৫০০ শব্দের একটি লেখা চাইলেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তৈরি করা যায়; কিন্তু বেশি করে পড়াশোনা করলে আপনি নতুন কিছু তথ্য পাবেন। যা আপনার লেখাকে সমৃদ্ধ করবে। যেমন: ধরুন বিদেশী কোন তারকার সম্পর্কে লিখতে বসলে আপনি উইকিপিডিয়াতে তার সম্পর্কে অনেক তথ্য পাবেন; কিন্তু মনে রাখতে হবে, এ বিষয়ে অন্য যারা লিখবে তারাও আপনার মতে উইকিপিডিয়ায় তথ্য খুঁজবে। আর তাতে সবার লেখাই একই রকম হতে পারে।

কিন্তু এর বাইরে ইন্টারনেটে খুঁজলে আপনি হয়তো ওই তারকা সম্পর্কে নতুন কিছু পাবেন। দেখা যাবে, ৫ বছর আগে সে কোন পত্রিকাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলো, যেখানে এমন কোন কথা বলেছে যা উইকিপিডিয়াতে নেই। ওই তথ্যটাই হতে পারে আপনার লেখার সেরা পয়েন্ট।

আরেকটা উপায় হচ্ছে, যা লিখবেন সেটা সম্পর্কে নিজেকেই প্রশ্ন করুন- আমি এই বিষয়ে কী কী জানতে চাই। অথবা আপনার পাশের বন্ধুকে জিজ্ঞেস করুন সে বিষয়টি নিয়ে কী জানতে চায়। এভাবে সম্ভাব্য সব তথ্য সন্নিবেশ করার চেষ্টা করুন।

এর পাশাপাশি আপনি কার জন্য লিখছেন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। ওই প্রতিষ্ঠান কী ধরণের লেখা চায়, তাদের সম্পদকীয় নীতি কেমন সেটা মাথায় রাখতে হবে। ইসলামী ভাবধারার কোন প্ল্যাটফর্মে লিখতে হলে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে সেখানে ধর্মের সাথে সংঘর্ষিক কোন বিষয় তুলে ধরা যাবে না। আবার আমেরিকাপন্থী কোন প্ল্যাটফর্মে রাশিয়ার গুণাগুণ তুলে ধরে লেখা দিলে তা প্রকাশ নাও হতে পারে।

কন্টেন্ট রাইটিং শেখার উপায়

লেখার প্রস্তুতির জন্য শুরুতেই বিষয় নির্ধারণ করুন। এরপর সেটা নিয়ে পড়াশোনা ও তথ্য সংগ্রহ করুন। এই কাজ দুটো করতে গিয়ে হয়তো আপনি মনে মনে আপনার লেখার একটি নকশা একে ফেলবেন। এরপর লেখায় কী কী বিষয় থাকবে, থাকা উচিত, রাখতে পারবেন তা নোট করুন। তারপর লিখতে শুরু করুন। আগে এই ‘হোম ওয়ার্ক’ করা থাকলে দ্রুতই লেখা শেষ করতে পারবেন।

আবার হয়তো লিখতে গিয়ে নতুন কোন চিন্তা মাথায় এলো। তখন সেটা ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য লেখায় বিরতি দিয়ে তথ্য জোগাড় করুন। এভাবেই শেষ করুন সুন্দর একটি কন্টেন্ট।

আসলে লেখালেখি শেখার সবচেয়ে ভালো উপায় পড়া এবং পড়া। আপনি যত পড়বেন আপনার কলম থেকে তত ভালো ভালো কন্টেন্ট বের হবে। কাজেই এটি শেখার সেরা উপায় হচ্ছে পড়া।

কন্টেন্ট রাইটিং কোর্স

কন্টেন্ট রাইটিং শেখার জন্য বাংলাদেশে তেমন কোন স্বীকৃত কোর্স নেই। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা সাংবাদিকতা ও লেখালেখির প্রশিক্ষণ দেয়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে আপনি ধারণা নিতে পারেন। তবে সবচেয়ে ভালো হবে অনলাইনে এ সংক্রান্ত আর্টিকেল পড়লে।

আর উপরে একটা কথা বলেছি, সেটা হলো কন্টেন্ট রাইটিং করার জন্য আপনাকে প্রচুর পড়তে হবে। বেশি বেশি পড়ুন, আর অল্প অল্প করে লিখুন। শুরুতে হয়তো আপনার লেখা নামী দামি প্রতিষ্ঠান প্রকাশ করবে না। তাই স্থানীয় মিডিয়া বা লিটল ম্যাগ লেখালেখি শুরু করার সেরা উপায়।

যেমন বরিশাল শহর ভিত্তিক একটি প্রকাশনা রয়েছে মুক্তবুলি নামে। বরিশালের খ্যাতিমান সাংবাদিক আযাদ আলাউদ্দিন এটির সম্পাদক। প্রতি মাসে বা দুই মাসে একবার করে মুক্তবুলি প্রকাশ হয়। এছাড়া নিয়মিত এর ওয়েবসাইটে লেখা প্রকাশ হয়।

মুক্তবুলিতে লেখালেখি করেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নবীন লেখকরা। এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলাই হয়েছে মূলত নবীন লেখকদের সুযোগ করে দিতে। তারা লেখালেখি করে নিজেদের হাত পাকা করছেন।

সারা দেশে চাইলেই আপনি এমন অনেক প্রতিষ্ঠান পাবেন। আপনার নিকটস্থ শহরেই হয়তো আছে এমন কোন প্রকাশনা। তাই সেখানেই শুরু করে দিন কন্টেন্ট রাইটিং কোর্স, সেটাই হবে শেখার সেরা উপায়।

কন্টেট রাইটিং করে আয়

কন্টেন্ট রাইটিং করে আয়ের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতে শখের বসে লেখালেখি করলেও পারিশ্রমিক পেলে সেটার প্রতি আন্তরিকতা বেড়ে যায়। না হলে একসময় আগ্রহ হারিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশেও এখন লেখালেখি করে উপার্জনের অনেক জায়গা রয়েছে। প্রথম সাড়ির সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠানগুলো কন্টেন্ট রাইটিংয়ের জন্য ভালো পারিশ্রমিক দেয়। টাকার অঙ্কের কথা বললে- এক হাজার শব্দের একটি কন্টেন্টের জন্য ভালো প্রতিষ্ঠানগুলো এক থেকে দেড় হাজার টাকা দেবে। স্থান-কাল-পাত্র ভেদে সেটা আরো বাড়তে পারে।
৩০০-৫০০ শব্দের লেখার জন্য ৫০০-৬০০ টাকা পারিশ্রমিক পাওয়া কঠিন কিছু নয়। তবে সে জন্য আপনাকে অবশ্যই নিজের লেখার মানটা তৈরি করতে হবে। যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজনেই আপনার লেখা প্রকাশ করে।

কন্টেন্ট রাইটিং করে জীবিকা নির্বাহের উদাহরণ আমি নিজেই। ২০২০ সালের মাঝামাঝিতে জাতীয় দৈনিকের চাকরি ছেড়েছি। এরপর থেকে কন্টেন্ট রাইটার হিসেবেই জীবিকা নির্বাহ করছি।

 

লিখেছেন : আহমেদ বায়েজীদ

সদস্য, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top