প্রকাশিত ভিডিও নিয়ে চরফ্যাশন প্রেসক্লাব সম্পাদকের সংবাদ সম্মেলন

 

স্টাফ রিপোর্টার: গত কয়েকদিন যাবৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেইসবুক) চরফ্যাশন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম দুলালকে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা তথ্য প্রচার হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন শহিদুল ইসলাম দুলাল । শনিবার চরফ্যাশন শহরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, একটি কুচক্রি মহল তাকে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। কু-চক্রিমহলটি তার পারিবারিক বিরোধকে পুঁজি করে এহেন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

শহিদুল ইসলাম দুলাল প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, আমার আপন বড় দুই ভাই নুরনবী সেন্টু ও হাজী ডাঃ আলমগীরের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ জমিজমা বিরোধ চলে আসছে। ঘটনার দিন ১৪ মে, বুধবার বেলা সাড়ে ১২ টায় ডাঃ আলমগীরের পুকুরের ঘাট সংলগ্ন ওয়াল সংস্কার করতে গেলে বড় ভাই নুরনবী সেন্টু ও তার ছেলে সাবেক কমিশনার ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা তরিকুল ইসলাম মিলনের নেতৃত্বে মিলনের ছোট ভাই মন্টু, মঞ্জু ও ফারুক সহ ৫/৭ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ডাঃ আলমগীরের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তার স্ত্রী হাজী নারগিস বেগমকেও মারধর করে।

সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম দুলাল বলেন, ঘটনা চলাকালীন উপজেলা বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়াসহ আমি চরফ্যাশন বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলাম।  এমন সময় আমার ভগ্নিপতি সানাউল্লাহ মারামারির বিষয়টি আমাকে মোবাইল ফোনে জানায়। ঘটনা শুনে চরফ্যাশন থানায় ওসি মিজানুর রহমানকে বিষয়টি অবগত করি। চরফ্যাশন থানার এসআই মনির ঘটনাস্থল তদন্ত করে চরফ্যাশন হাসপাতালে গিয়ে আহত আলমগীর ও নারগিসকে দেখতে যায়।

শহিদুল ইসলাম দুলাল আরো জানান, তাদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতে হাসপাতালের গেটে পৌছা মাত্রই পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী হামলাকারী মঞ্জু, ফারুক সহ সন্ত্রাসী দল আমাকে গালমন্দ করে। এরপর হাসপাতালে জরুরী বিভাগে গেলে ফারুক আবার গালমন্দ করে। যার কারণে উপস্থিত জনতার রোষানলে পরে হাসপাতালে অনাকাঙ্খিত ঘটনা সূত্রপাত হয়। তারা পরিকল্পিতভাবে ঝামেলা বাধিয়ে তার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমাকে হেয় করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। আমার এখানে এই ভূমিতে কোন সম্পত্তি নেই এবং দাবিও করি না।

আহত ডাঃ আলমগীরের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমার বড় ভাই নুরনবী সেন্টু থেকে তজুমদ্দিন চাকুরী করা অবস্থায় আমার কাছে জমি বিক্রি করার প্রস্তাব দিলে আমি রাজি হই। আমি টাকা দিলে সেই আমাকে জমিগুলো দলিল করে দিয়েছে। কিন্তু নুরনবী সেন্টুর কাছে জমি দাবি করলে সে আমাকে প্রায় সময় প্রাণনাশের হুমকি দেয়। কারণ তার চার ছেলে মিলন, মন্টু, ফারুক ও মঞ্জু আওয়ামী গডফাদার, তার লালিত চার ভাই সব সময় আমাকে মারধর করার চেষ্টা করেন। আমি ১৭ বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা চরফ্যাশন থানা প্রশাসনের কাছে গেলেও মিলনের ভয়ে কেউই বিচার করেননি এবং সমাধান দেননি। আমি বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছি। আমি এর বিচার চাই।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top