বানারীপাড়া প্রতিনিধি
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে চালু হওয়া সরকারি ‘মিড-ডে মিল’ কার্যক্রম নিয়ে দেখা দিয়েছে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ। উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের ও অখাদ্য খাদ্যসামগ্রী—যা নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে বসা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একেবারে কাঁচা, সবুজ ও অপরিপক্ক কলা—যা খাওয়ার সম্পূর্ণ অনুপযোগী। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, একদিন আগের সিদ্ধ করা ডিম ও মেয়াদ শেষ হওয়া রুটি সরবরাহ করা হচ্ছে শিশুদের মাঝে।
এ ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এক অভিভাবক বলেন, প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাই—আপনি কি আপনার নিজের সন্তানের জন্য এমন খাবার কিনে দেন? তাহলে আমাদের শিশুদের কেন এ ধরনের অখাদ্য খাবার দেওয়া হচ্ছে?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বানারীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন নেছারাবাদ উপজেলার পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল আহমেদ। নিম্নমানের খাবার সরবরাহে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নেটিজেনদের অনেকেই মন্তব্য করেছেন, শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে এমন অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং শুধু মুনাফার আশায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুঃখজনক।
চিকিৎসকদের মতে, অপরিপক্ক বা কাঁচা কলা খাওয়ালে শিশুদের হজমে সমস্যা হতে পারে, এমনকি পেটব্যথা ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
এদিকে, ‘স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামে’ শিশুদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।




