কোরআনের ‘ভুল’ ধরতে গিয়ে বদলে গেলেন গাজী রাকায়েত

ডেস্ক রিপোর্ট

সম্প্রতি এক পডকাস্টের আলোচনায় জনপ্রিয় নির্মাতা ও অভিনেত্রী গাজী রাকায়েত জানিয়েছেন, কোরআনের ‘ভুল’ ধরতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেই নিজের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রখ্যাত এই নির্মাতা ২৮টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন এবং যার চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত। একসময় নাস্তিকতায় নিমজ্জিত এই মেধাবী মানুষ কোরআনের ‘ভুল’ খুঁজতে গিয়ে উল্টো ইসলামের প্রতিই গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন।

ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত গাজী রাকায়েত পড়াশোনা করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-এ। বিজ্ঞানচর্চা এবং ব্যক্তিগত জীবনের কিছু দুঃখজনক ঘটনার প্রভাবে তার মনে স্রষ্টা সম্পর্কে প্রশ্ন তৈরি হয়। বিশেষ করে কাছের এক আত্মীয়ের মৃত্যুর ঘটনা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেখান থেকেই তিনি ধীরে ধীরে ধর্ম থেকে দূরে সরে গিয়ে নাস্তিকতার দিকে ঝুঁকে পড়েন।

এই সময়ে তিনি আলবার্ট আইনস্টাইন ও স্টিফেন হকিং-এর মতো বিজ্ঞানীদের বই পড়ে যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। স্রষ্টার অস্তিত্ব অস্বীকার করে তিনি নিজেকে একজন দৃঢ় নাস্তিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।

তবে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় এক ভিন্ন উদ্দেশ্য থেকে। কোরআনের ‘ভুল’ প্রমাণ করার জন্য তিনি কোরআনের একটি বাংলা অনুবাদ সংগ্রহ করেন। কিন্তু সেই অনুসন্ধানই তাকে এক নতুন সত্যের সামনে দাঁড় করায়। কোরআন পাঠের কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি গভীরভাবে আলোড়িত হতে থাকেন।

বিশেষ করে একটি আয়াতে ‘মানুষের মধ্যে আল্লাহ নিজের রূহ ফুঁকে দিয়েছেন, এই বক্তব্য তাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। এরপর ধীরে ধীরে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও তাতে বর্ণিত বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিত তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

তিনি দাবি করেন, মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কিত বিগ ব্যাং তত্ত্ব কিংবা জ্যোতির্বিজ্ঞানের নানা বিষয় কোরআনে বহু আগেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। সূর্য-চন্দ্রের নিজ নিজ কক্ষপথে চলাচল, সাগরের পানির মধ্যে অদৃশ্য বিভাজন- এসব বিষয় তার কাছে কোরআনের বৈজ্ঞানিক দিককে নতুনভাবে তুলে ধরে।

একজন প্রকৌশলী হিসেবে তিনি কোরআনের গাণিতিক বিন্যাস নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন। তার মতে, কোরআনের সূরা ও আয়াতের সংখ্যার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অনুপাত ও সামঞ্জস্য রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে রচনা করা সম্ভব নয়।

এই অভিজ্ঞতার পর তিনি ধীরে ধীরে ইসলামের দিকে ফিরে আসেন এবং স্রষ্টার একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করেন। তার ভাষায়, ‘মানুষ যত জ্ঞানই অর্জন করুক, স্রষ্টাকে ছাড়া তা পূর্ণতা পায় না।’

পডকাস্টে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে তার দৃষ্টিভঙ্গি সীমিত ছিল। কিন্তু বিভিন্ন তাফসির, প্রেক্ষাপট ও ব্যাখ্যা জানার পর তিনি বুঝতে পারেন, কোরআনের আয়াতগুলোকে বুঝতে হলে সঠিক জ্ঞান ও প্রসঙ্গ জানা অত্যন্ত জরুরি।

এই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি ‘আত্মসমর্পণ’ শব্দটি ব্যবহার করেন- যা তার ভাষায় সত্যকে মেনে নেওয়ার এক ধরনের মানসিক পরিবর্তন।

গাজী রাকায়েত আরও বলেন, ‘কোনো কিছু সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করার আগে সেটিকে গভীরভাবে জানা দরকার। না জেনে মন্তব্য করলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে।’

তার এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ এটিকে ব্যক্তিগত উপলব্ধির গল্প হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও করছেন।

বর্তমানে তিনি নিয়মিত ধর্মচর্চা করছেন এবং ভবিষ্যতে কোরআনের বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক দিক নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা করার স্বপ্ন দেখছেন। তার এই জীবনযাত্রার পরিবর্তন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

শীর্ষনিউজ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top