আশায় দিন গুনছে বানারীপাড়ার ২৭ গৃহহীন পরিবার

 

মাহমুদুল হাসান, বানারীপাড়া (বরিশাল)

‘আমরা গরিব মানুষ। মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই ছিল, সেটুকুও আর নেই। এখন ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোথায় যাই?’- কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন ৭০ বছর বয়সী জাহানারা বেগম। তিনি ছিলেন বরিশালের বানারীপাড়ার খেজুরবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক বাসিন্দা, যাকে বিনা নোটিশে উচ্ছেদ করা হয়।

২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সরকারি নীতিমালার দোহাই দিয়ে বানারীপাড়ার খেজুরবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে উচ্ছেদ করা হয় ৩১টি পরিবারকে। অভিযোগ ছিল, তারা ‘স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুপযোগী’ কিংবা ‘অবৈধ দখলদার’; কিন্তু বাস্তবতা হলো, এসব পরিবার বহু বছর ধরেই এখানে বসবাস করছিল- অনেকের সন্তানদের জন্ম, এমনকি বিয়েও হয়েছে এই ছাপড়াঘরেই।

উচ্ছেদের পর থেকেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এসব মানুষ। কেউ খোলা জায়গায় পলিথিন টাঙিয়ে, কেউবা আত্মীয়-স্বজনের বারান্দায় মাথা গুঁজে দিন পার করছেন। এমন পরিস্থিতিতে এই ৩১টির মধ্যে ২৭টি পরিবার আবারও একটি নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় সরকারি দফতরের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

গত ১৫ জুলাই তারা একত্রে নবনিযুক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাফিজ-এর কাছে পুনরায় ঘর চেয়ে আবেদন করেছেন।

এসিল্যান্ড আহসান হাফিজ বলেন, মানুষ যেন মানবেতর অবস্থায় না থাকে, সেটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। প্রতিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, খেজুরবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পটি ছিল বানারীপাড়ার একটি অন্যতম পুনর্বাসন প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে এখানে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো সরকারি উদ্যোগে বসবাস করছিল। তবে কাগজপত্রের জটিলতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অনেকেই উচ্ছেদের মুখে পড়েন।

স্থানীয়ভাবে এই ঘটনাটি ব্যাপক সমবেদনা ও আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিতে বসবাসরতদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদ মানবিক নয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আল মাহদী বলেন, আমরা অবৈধ দখলদার নই। আমাদের এখানে সরকারি অনুমতিতেই বসবাস ছিল। কিছু ভুল বোঝাবুঝিতে হয়তো উচ্ছেদ হয়েছে, তবে আমরা আবারও সরকারের কাছে আশ্রয়ের আবেদন করছি।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সরকারের উচিত, যাদের একসময় ঘর দিয়েছিল, তাদের জীবন থেকে সেই ছাদ কেড়ে না নিয়ে বরং সত্যিকার গৃহহীনদের খুঁজে বের করে পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top