ক্রীড়া ডেস্ক
পিএসএল ফাইনালের মঞ্চে নিজের প্রয়োজনীয়তা দারুণভাবে বুঝিয়ে দিলেন বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানা। লাহোরে হায়দরাবাদ কিংসের বিপক্ষে পেশোয়ার জালমির শিরোপা জয়ের রাতে বল হাতে বড় ভূমিকা রাখলেন টাইগার পেসার। ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। তার গতির চাপেই মাঝপথে ভেঙে পড়ে হায়দরাবাদের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ১২৯ রানে অলআউট হয় তারা। জবাবে ৫ উইকেট ও ২৯ বল হাতে রেখে লক্ষ্য পেরিয়ে ৯ বছর পর পিএসএল চ্যাম্পিয়ন হয় পেশোয়ার।
হায়দরাবাদের শুরুটা খুব খারাপ ছিল না। প্রথম ৫ ওভারে ২ উইকেট হারালেও স্কোরবোর্ডে উঠে যায় ৫৬ রান। সেই অবস্থায় ষষ্ঠ ওভারে আক্রমণে আসেন নাহিদ। প্রথম ওভারে কিছু রান দিলেও পরে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে শুরু করেন তিনি। সুফিয়ান মুকিমের ওভারে উসমান খান ও ইরফান খান দ্রুত ফিরে গেলে চাপে পড়ে হায়দরাবাদ। সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেন নাহিদ।
নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে ফিরিয়ে দেন নাহিদ রানা। শর্ট বল পুল করতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ দেন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার। ম্যাক্সওয়েলের গোল্ডেন ডাকে হায়দরাবাদের ব্যাটিং লাইনআপ আরও বিপাকে পড়ে। একই ওভারে কুশল পেরেরার রানআউটের পর স্কোর দাঁড়ায় ৭৩ রানে ৬ উইকেট।
এরপর ১৪তম ওভারে আবার আক্রমণে এসে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন নাহিদ। তার গতির সামনে হায়দরাবাদের ব্যাটসম্যানরা ওই ওভারে কোনো রানই নিতে পারেননি। ওভারের পঞ্চম বলে হুনাইন শাহকে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশের এই পেসার। মেডেন উইকেটের সেই ওভার কার্যত হায়দরাবাদের ইনিংসের শেষ প্রতিরোধও ভেঙে দেয়। পরে ১৭তম ওভারে নিজের শেষ ওভারে দেন মাত্র ৪ রান।
রান তাড়ায় অবশ্য শুরুতে চাপে পড়ে পেশোয়ারও। ৪০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে অ্যারন হার্ডি ও আবদুল সামাদের ৮৫ রানের জুটি পেশোয়ারকে আবার নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনে। সামাদ ৩৪ বলে ৪৮ রান করে আউট হলেও হার্ডি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৩৯ বলে ৫৬ রানে।
হার্ডির অলরাউন্ড পারফরম্যান্সও ফাইনালের অন্যতম বড় গল্প। ব্যাট হাতে ফিফটির আগে বল হাতে ২৭ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে রাতটি বিশেষ হয়ে থাকবে নাহিদ রানার ফাইনাল-জ্বলা বোলিংয়ের জন্যই। বড় ম্যাচে গতি, আগ্রাসন ও নিয়ন্ত্রণ মিলিয়ে পেশোয়ারের শিরোপা জয়ে নিজের ছাপ স্পষ্ট করে রাখলেন নাহিদ।




