আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানে যুদ্ধ চার সপ্তাহে গড়িয়েছে। এতদিনেও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির জনসম্মুখে না আসা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এবার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নওরুজ (পারস্য নববর্ষ) উদযাপনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ এবং ইসরাইলের মোসাদসহ বিশ্বজুড়ে অন্যান্য গোয়েন্দাসংস্থাগুলো উৎসুক ছিল মুজতাবা কী করেন তা দেখতে।
মুজতাবা তার বাবা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মতো ঐতিহ্য মেনে নওরুজের ভাষণ দেন কিনা নজর ছিল সেদিকে। কিন্তু মুজতাবার কাছ থেকে কেবল একটি লিখিত বিবৃতি আসার মধ্য দিয়ে দিনটি পার হওয়ায় তার শারিরীক অবস্থা, ভূমিকা এবং তিনি কোথায় আছেন তা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বাবার মৃত্যুর পর থেকেই মুজতাবার এই ছায়াঘেরা অবস্থান বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। মুজতাবার খোঁজ চালিয়ে তার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে আভাস পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে সিআইএ, মোসাদ ও অন্যান্য গোয়েন্দ সংস্থাগুলো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে নিউজ সাইট অ্যাক্সিওস। ইসরাইলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, “মুজতাবাই যে আসলে নির্দেশ দিচ্ছেন এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও প্রমাণ নেই।”
মুজতাবাকে নিয়ে সাম্প্রতিক মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি (মুজতাবা) বেঁচে আছেন ঠিকই, কিন্তু ইরানে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ তার হতে নেই।
‘দ্য জেরুসালেম পোস্ট পত্রিকায় দুই সূত্র দাবি করেছে, বর্তমানে ইরান পরিচালনার ক্ষমতা আছে রেভল্যুশনারি গার্ড কোর-এর (আইআরজিসি) হাতে। এক সূত্র বলেছে, রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীই হয়ত মুজতাবাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। বিষয়টি আসলে কি তা শিগগিরই স্পষ্ট হবে বলে তিনি দাবি করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরাইল এবং মার্কিন হানায় নিহত হওয়ার পর গত ৯ মার্চ তার ছেলে মুজতবাকে সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার প্রথম বিবৃতি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় ১২ মার্চে। আর ২০ মার্চে আসে নওরুজের লিখিত বার্তা। সেটিও প্রচার হয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে। এতে মুজতাবার শারিরীক অবস্থা এবং তিনি কোথায় আছেন তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।




