গাজায় বিজয়ের আনন্দ

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক : দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসন পার হয়ে অবশেষে যুদ্ধবিতির দ্বারপ্রান্তে পৌছেছে গাজা উপত্যকা। রোববার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ১২টায় যুদ্ধবিরত শুরু হওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে উপভয় পক্ষ। আগের দিন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে এই সময়সীমা।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা এক পোস্টে বলেন, ‘চুক্তির পক্ষগুলো এবং মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে সমন্বয়ের পর গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে।’ গাজাবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সতর্ক থাকুন, সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করুন এবং কেবল সরকারি সূত্র থেকে পাওয়া নির্দেশনার অপেক্ষা করুন।’

গাজার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন তারা। দ্রুত ফিরতে চান নিজের ভিটায়। অনেক বাসিন্দা বলেছেন, যদিও বাড়ি-ঘর কিছুই অবশিষ্ট নেই ইসরাইলি হামলায়, তবুও তারা ভিটায় ফিরতে মুখিয়ে আছেন। সুযোগ পাওয়া মাত্র চলে যাবেন সেখানে।

যুদ্ধবিরত চুক্তি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই গাজায় আনন্দ প্রকাশ করছেন নাগরিকরা। ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকা ও হার না মানার জন্য এই আনন্দ। তবে পাশাপাশি স্বজন হারানোর বেদনাও রয়েছে। ৪৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবারের ইসরাইলি আগ্রাসনে। তবুও গাজার প্রতিরোধ যোদ্ধারা আত্মসমর্পন করেনি, ইসরাইলও পারেনি যুদ্ধ করে বন্দীদের মুক্ত করতে। শেষ পর্যন্ত তারা রাজি হয়েছ চুক্তিতে আসতে। মূলত ইসরাইলের এই নতি স্বীকারকেই নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে গাজাবাসী।

এদিকে, যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বন্দী বিনিময় চুক্তি নিয়ে লেবানন ভিত্তিকসংবাদ মাধ্যম আল-মায়াদিনকে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস যেকোনো নারী বা শিশু বন্দীকে মুক্তি দিলে, প্রতি বন্দীর বিপরীতে ইসরায়েলি কারাগার থেকে ৩০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে। এর মধ্যে নারী ও শিশুরাও থাকবে। একইভাবে, ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী কিংবা অসুস্থ বন্দীদের ক্ষেত্রে প্রতি বন্দীর বদলে ৩০ জন বয়স্ক বা অসুস্থ ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি পাবে।

এ ছাড়া, একজন নারী ইসরায়েলি সেনাকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে ৩০ জন ফিলিস্তিনি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী এবং ১৫ বছরের কম সাজা বাকি থাকা আরও ২০ জন বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে। চুক্তির প্রথম ধাপে ২০১১ সালের বিনিময় চুক্তিতে মুক্তি পাওয়া কিন্তু পরবর্তীতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পুনরায় গ্রেপ্তার হওয়া ৪৭ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে।

তা ছাড়া, এই চুক্তির আওতায় মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দীদের আগের অভিযোগে পুনরায় গ্রেপ্তার করা যাবে না। তাদের বাকি সাজা ভোগ করতে হবে না এবং মুক্তির শর্ত হিসেবে কোনো নথিতে স্বাক্ষর করতে হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top