বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের ব্যাপক হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা চারশো ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৫৬২ জন। দুই মাস ধরে চলা হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সোমবার রাতে এই হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজার বিভিন্ন এলাকায় এই হামলা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে খান ইউনিস, রাফাহ, গাজা সিটি ও দেইর আল-বালাহ।
মঙ্গলবার রাতে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এখন পর্যন্ত গাজায় ৪০৪ শাহাদাতবরণকারী ও ৫৬২ আহতকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এখনও অনেক লাশ ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে আছে।
গাজা সিটি থেকে আল জাজিরর প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত হামলা হয়েছে একটানা। চারদিকে বিমান হামলা, কামান ও মেশিন গানের শব্দ শোনা গেছে। হেলিকপ্টার থেকেও গুলি ছোড়া হয়েছে।
হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, নেতানিয়াহু ও তার চরমপন্থি সরকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা গাজায় জিম্মিদেরর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সংগঠনটি আরব ও ইসলামি দেশগুলোর পাশাপাশি বিশ্বের মুক্তমনা মানুষকে রাস্তায় নেমে এই হামলার প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুনরুদ্ধারের সব প্রচেষ্টা ধ্বংস করার অভিযোগ এনেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজ্জুম দেইর আল-বালাহ থেকে জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, অস্থায়ী স্কুল ও আবাসিক ভবনগুলোতে হামলা হয়েছে। এসব স্থানে মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। তিনি বলেন, গত এক ঘণ্টায় আমরা ইসরায়েলি ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি শুনেছি। হামলায় নিহতদের মধ্যে নবজাতক, শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও রয়েছেন। এছাড়া হামাসের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস বলেছে, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর এই বর্বর হত্যাকা- প্রমাণ করে যে তারা শুধু হত্যা, ধ্বংস ও গণহত্যার ভাষাই বোঝে। তারা নিরীহ মানুষের রক্তপাতের মাধ্যমে তাদের আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ করেছে।




