বিদ্রোহীদের দখলে দামেস্ক, বাশারের পলায়ন

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

অবশেষে পতন হলো সিরীয় স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের। রবিবার ভোররাতে রাজধানী দামেস্কে ঢুকে পড়ে সুন্নী বিদ্রোহীরা। বিদ্রোহীরা রাজধানীতে প্রবেশ করেই বাশারমুক্ত দামেস্কের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আরব বিশে^র দেশটিতে অবসান হলো দীর্ঘদিনের এক পরিবারের শাসন।

১৯৭১ সাল থেকে আসাদ পরিবার দেশটির শাসন ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিলো। বাবা হাফিজ আল আসাদের পর ২০০০ সাল থেকে গদিতে ছিলেন বাশার আল আসাদ। তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিত ইরান ও রাশিয়া। তার বিরুদ্ধে ২০১১ সালের আরব বসন্তের সময় সৃষ্ট গণআন্দোলন নির্মমভাবে দমন করার অভিযোগ আছে। ওই সময় আন্দোলন দমন করতে হাজার হাজার মানুষকে গুম, বিনাবিচারে হত্যা করা হয় দেশটিতে।

রবিবার ভোরে বিদ্রোহী যোদ্ধারা রাজধানী দামেস্কে ঢুকে পরে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ একটি বিমানে চড়ে দামেস্ক থেকে অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে দুই সিনিয়র সেনা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বিদ্রোহীরা বলেছে, তারা রাজধানী দামেস্কে প্রবেশ করেছে। তবে এই শহরে প্রবেশের পথে সরকারি বাহিনীকে কোথাও দেখা যায়নি। বিদ্রোহীরা বলেছে, আমরা সিরিয়ার জনগণের সাথে আমাদের বন্দিদের মুক্ত করার এবং জনগনকে শিকল মুক্ত করার এবং সেদনায়া কারাগারে অন্যায় যুগের সমাপ্তি ঘোষণা করার খবর উদযাপন করছি।

রয়টার্স বলছে, সেদনায়া হচ্ছে দামেস্কের উপকণ্ঠে অবস্থিত এমন একটি বড় সামরিক কারাগার, যেখানে সিরিয়ার সরকার হাজার হাজারকে বন্দিকে আটক করে রেখেছিল।

এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বিদ্রোহীরা জানিয়েছিল, তারা মাত্র এক দিনের লড়াইয়ের পরে সিরিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর হোমস সম্পূর্নরূপে দখল করে নিয়েছে। এতে করে শনিবারই বাশারের ২৪ বছরের শাসন বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ে গিয়েছিল।

এদিকে দামেস্কের প্রাণকেন্দ্রে গুলির তীব্র শব্দ শোনা গেছে বলে রবিবার সেখানকার দুই বাসিন্দা জানিয়েছেন। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে গোলাগুলির উৎস কী তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

অন্যদিকে রাজধানীর দক্ষিণ-পশ্চিমের গ্রামীণ এলাকায় স্থানীয় যুবকরা এবং সাবেক বিদ্রোহীরা ক্ষমতা হারানোর সুযোগ নিয়ে আসাদ পরিবারের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছেন। দামেস্ক নগরীর রাস্তায়ও অনেককে উল্লাস করতে দেখা গেছে। এর আগে মধ্যাঞ্চলীয় শহর হোমস থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর হাজার হাজার বাসিন্দা রাস্তায় নেমে আসেন এবং স্লোগান দেন। ##

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top