গাজা লেবানন ইয়েমেন : তিন ফ্রন্টে লড়াই শুরু

এবার একযোগে তিনটি ফ্রন্টে লড়াই শুরু করেছে দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইল। গাজায় দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে চলা যুদ্ধের পর দেশটি কয়েকদিন ধরে লেবাননে হামলা চালাতে থাকে। লেবাননে স্থল সেনারা প্রবেশ না করলেও বিমান হামলায় প্রচুর হতাহত হয়েছে। হিজবুল্লাহর প্রধানকেও বিমান হামলায় হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। যে কোন সময় সীমান্ত পার হলে ইসরাইলের স্থল বাহিনী লেবাননে ঢুকে পড়তে পারে। এরই মধ্যে রবিবার ইয়েমেনেও হামলা চালিয়েছে তারা।

যার মধ্য দিয়ে একই সাথে তিন ফ্রন্টে লড়াই শুরু করেছে ইসরাইল। এই লড়াইয়ে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ গাজার হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুথি আনসার আল্লাহ গোষ্ঠি। পাশাপাশি ইরাকের ইরান সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়ারাও ইসরাইলের স্বার্থের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রয়েছে। তারা ইরাক থেকেই ড্রোন পাঠিয়ে ইসরাইলে হামলার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে হিজবুল্লাহ ও হুথিদের সাথে ইরান ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। যে কারণে ইরান যে কোন সময় এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এই যুদ্ধে ইরান জড়িয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শীর্ষনেতাদের হারানোর কারণে হিজবুল্লাহর পক্ষে ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই করে ঠিকে থাকা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ইসরাইলের ওপর যে কোন আক্রমণ হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের রক্ষায় সর্বশক্তি নিয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যদি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে আরো একটি নতুন ফ্রন্টে সঙ্ঘাত শুরু হবে এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পথ তৈরি হবে।

আলজাজিরা জানিয়েছে, হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যুর পর রবিবারও লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি ড্রোন ও যুদ্ধবিমান। রাজধানী বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে তারা হামলা চালায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অবিরাম হামলার কারণে আরও একটি রক্তাক্ত দিনের স্বাক্ষী হয়েছে লেবানন। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ইসরাইলি বোমাবর্ষণে সারাদেশে কমপক্ষে ১০৫ জন নিহত এবং আরও ৩৫৯ জন আহত হয়েছেন।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ সিডনের কাছে আইন আল-দেলবে একটি হামলায় দুটি আবাসিক ভবনকে সম্পূর্ণ গুড়িয়ে গেছে এবং এতে ৩২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ঘটনাস্থলে আশ্রয় নেওয়া অনেক বাস্তুচ্যুত পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। লেবাননের বেশ কিছু রাজনীতিবিদ এই হামলাকে “গণহত্যা” বলে বর্ণনা করেছেন।

হিজবুল্লাহ বারবার সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে ইসরাইলি ট্যাংক ঢুকলে সেগুলো আর বের হতে পারবে না। গাজার মতোই লেবানন থেকেও ইসরাইলি সেনাদের লাশ বের করতে হবে। তা সত্ত্বেও ইসরাইলি বাহিনী ক্রমশ লেবাননে হামলা জোরদার করছে। এবং পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর আগেই হিজবুল্লাহ প্রধানসহ বেশ কিছু শীর্ষ নেতাকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে ইহুদিবাদী দেশটি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top