গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

গাজায় প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রস্তাবে সম্মতিও দিয়েছে ইসরাইল। তবে হামাসের পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও হামাস আগে থেকে বলে আসছে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ছাড়া তার আর কোন জিম্মিকে মুক্তি দেবে না।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর একটি বড় বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের দেয়া যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধি করার পরিকল্পনাটিতে সম্মত হয়েছে।

এই প্রস্তাবে রয়েছে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপটিকে বর্ধিত করার কথা। যার আওতায় এপ্রিল মাসের বিশ তারিখ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধি করা হবে। মুসলিমদের পবিত্র মাস রমজান ও ইহুদিদের পাসওভার উৎসব এই সময়ের মধ্যে পালিত হবে। মার্চ মাস জুড়ে রমজান মাস থাকবে। আর এপ্রিলের ১২ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত চলবে ইহুদিদের বসন্তকালীন পাসওভার উৎসব। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী গাজায় হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের অর্ধেককে ছেড়ে দিতে হবে এই সময়ের মধ্যে।

ধারণা করা হচ্ছে এখনো হামাসের হাতে ৫৯ জন ইসরাইলি নাগরিক জিম্মি হিসেবে রয়েছে। তবে তাদের অর্ধেক জীবিত এবং বাকি অর্ধেক বন্দি অবস্থায় ইসরাইলি গোলার আঘাতে নিহত হয়েছে।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, আসলে সামনের দিনগুলোতে কী হবে সেটি স্পষ্ট নয়। কারণ ইসরাইলি সরকার জানিয়েছে, তারা যে কোন সময় আবার যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরু করতে আরো অনেক সময় দরকার। কাজেই এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে অর্ধেক জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হোক এবং যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে বাকি অর্ধেক জিম্মি মুক্তি পাবে।

তবে এ বিষয়ে রোববার সকালে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হামাসের দিক থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি ফিলিস্তিনের গাজায় প্রথম ধাপে ৪২ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। এই সময়ের মধ্যে ২৫ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি আটজন ইসরায়েলি জিম্মির লাশ হস্তান্তর করে হামাস। এর বিনিময়ে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেয় ইসরায়েল।
প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে শনিবার। এর পরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মার্কিন প্রস্তাবে সায় থাকার কথা জানানো হলো। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির ১৬তম দিন থেকে দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে আলোচনার জন্য প্রতিনিধিদল পাঠাতে বিলম্ব করে ইসরায়েল। শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল গত বৃহস্পতিবার মিসরের কায়রোয় নিজেদের প্রতিনিধিদল পাঠায়।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top