বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান নেতা হাসান নাসরুল্লাহ ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংগঠনটি । শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে তারা। শুক্রবার সন্ধ্যায় লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয় হিজবুল্লাহর সদর দপ্তরকে। হামলার সময় সেখানে ছিলেন হাসান নাসরুল্লাহ।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হ্যাগারি জানান, বিমানবাহিনী হিজবুল্লাহর প্রধান সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। হামলায় ২ হাজার কেজির বাঙ্কার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয় অত্যাধুনিক এফ-৩৫ বিমান থেকে।
নাসরুল্লাহর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে দেওয়া বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেছে, “প্রতিরোধের প্রধান, ধর্মনিষ্ঠ বান্দা তার সৃষ্টিকর্তার কাছে যেতে একজন শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন। সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ, হিজবুল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেল। যোগ দিয়েছেন তার সেরা, অমর সহযোগীদের সঙ্গে। যাদের তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর একের পর এক জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
নাসরুল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম পরিচিত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। তবে মৃত্যুর আগে নাসরুল্লাহকে গত এক বছরে একবারও প্রকাশ্যে বের হতে দেখা যায়নি। কারণ তিনি সব সময় ইসরায়েলের গুপ্তহত্যার শঙ্কায় ছিলেন।
নাসরুল্লাহর ব্যক্তিগত জীবন ছিল ছায়াবৃত। তার সঙ্গে ইরানের ছিল খুবই গভীর সম্পর্ক। এই ইরানের সহায়তা নিয়েই হিজবুল্লাহকে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে পরিণত করেছিলেন তিনি।
১৯৮৫ সালে হিজবুল্লাহ আত্মপ্রকাশ করে। শুরুতে একজন সাধারণ যোদ্ধা হিসেবে লড়াই করার পর তিনি প্রথমে লেবাননের বালবেকের পরিচালকের দায়িত্ব পান। এরপর পান পুরো বেকা অঞ্চলের। সবশেষে বৈরুতের দায়িত্ব আসে তার কাঁধে।
১৯৯২ সালে হিজবুল্লাহর তৎকালীন প্রধান নেতা আব্বাস-আল-মুসাওই ইসরায়েলি হেলিকপ্টার হামলায় প্রাণ হারান। এরপর মাত্র ৩২ বছর বয়সে হিজবুল্লাহর প্রধানের দায়িত্ব পান হাসান নাসরুল্লাহ।
নাসরুল্লাহ দায়িত্ব নিয়েই সবার প্রথমে আব্বাস-আল-মুসাওইর হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তিনি দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে রকেট ছোড়ার নির্দেশ দেন।




