ডেস্ক রিপোর্ট
সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলা ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে ‘পথ দেখিয়ে’ বের করে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সোমবার থেকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু করবে।
সোমবার (৪ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্র সংবাদ সংস্থা ফার্স।
সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণারি পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশে যাত্রা করা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে থামার সতর্কবার্তা দেয় ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করলে জাস্ক দ্বীপের কাছে মার্কিন নৌবাহিনীর ওই জাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জাহাজে আঘাত হেনেছে।
হরমুজে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ প্রবেশে বাধা দেওয়ার খবরটি বিবৃতিতে জানিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। তারা জানায়, ইরানের নৌবাহিনী ‘কঠোর ও দ্রুত সতর্কবার্তা’ দিয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশে বাধা দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স করেসপন্ডেন্ট বারাক রাভিদ এক্সে জানিয়েছেন, একজন মার্কিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাহাজে ইরানি হামলার কথা অস্বীকার করেছেন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক্সে জানিয়েছে, ‘মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজে হামলা হয়নি। মার্কিন বাহিনী ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-কে সমর্থন করছে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে ‘পথ দেখিয়ে’ বের করে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সোমবার থেকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু করবে। সেন্টকম জানিয়েছে, তারা এই কাজে ১৫ হাজার সামরিক কর্মী, ১০০টিরও বেশি স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং ড্রোন দিয়ে সহায়তা করবে।
এর আগে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ট্রানজিট নির্দেশিকা লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোকে বলপূর্বক থামানো হবে। তিনি জাহাজ কোম্পানি ও বীমাকারীদের আইআরজিসির নির্দেশনাগুলো আমলে নিতে আহ্বান জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টাকারী কিছু জাহাজের ওপর গুলি চালানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরান আরও বেশ কয়েকটি জাহাজ জব্দ করেছে।




