বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে শনিবার ভোরে চালানো ইসরাইলি হামলায় দেশটির পারমাণবিক স্থাপনার কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। রোববার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক স্থাপনায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইসরাইলের মারাত্মক বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রভাবিত হয়নি বলে শনিবার জাতিসংঘের পারমাণবিক শক্তি পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা- আইএইএ’র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ক্ষতি হয়নি। এসময় তিনি পরমাণু এবং অন্যান্য তেজস্ক্রিয় পদার্থের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে পারে এমন কর্মকা- থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
এর আগে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ জানায়, তারা ইরানের ‘সামরিক স্থাপনায় সুনির্দিষ্ট হামলা’ চালিয়েছে। ‘কয়েক মাস ধরে ইরানের ধারাবাহিক হামলার’ জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস বলছে ‘আত্মরক্ষার’ অংশ হিসেবে ইরানে এই হামলা করেছে ইসরায়েল।
একাধিক বিশ্লেষক ও স্যাটেলাইট ইমেজের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মিসাইল উৎপাদনের জন্য সলিড ফুয়েল মিশ্রণ করে এমন একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইসরাইলি হামলায়।
জাতিসঙ্ঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক ডেভিড অলব্রাইট ও ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সিএনএ’র বিশ্লেষক ডেকার ইলেভেনথ রয়টার্সকে বলেছেন, তেহরানের কাছে ইরানের একটি বড় সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। যেটি পারচিন নামে পরিচিত। এছাড়া খোজির এলাকায় একটি মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে।
গত জুলাই মাসে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল খোজির এলাকায় ভূগর্ভস্থ উৎপাদন কেন্দ্রে বড় ধরণের উৎপাদন প্রক্রিয়া চলছে। ডেকার ইলেভেনথ বলেছেন, এবারের ইসরাইলি হামলায় সম্ভবত ইরানের মিসাইল উৎপাদন সক্ষমতার বড় ধরণের ক্ষতি হয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তাদের যুদ্ধবিমান তিন দফায় ইরানের মিসাইল ফ্যাক্টরিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের কাছে এবং পশ্চিম ইরানে শনিবার ভোরে এসব হামলা চালানো হয়।




